একের পর এক বোমা বর্ষণে বিপর্যস্ত অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বোমা ছাড়াও ওষুধ আর চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে প্রাণ বাঁচানো দুস্কর হয়ে পড়েছে। নেই খাবার বা পানযোগ্য পানির কোন ব্যবস্থা। মৃত্যুভয়, ক্ষুধা আর তীব্র শীতে নাজেহাল দশা গাজাবাসীর।
ভয়াবহ এক রাতে যখন বাড়ির চারপাশেই একের পর এক বোমা বর্ষণ চলছিলো তখন মা ফেদার হাত ধরে রাফাহ সীমান্তের কাছে একটি শরণার্থী শিবিরে পালিয়ে আসে ছোট্ট শিশু লায়ান। আরো লাখো ফিলিস্তিনির মতো তাদেরও ছেড়ে আসতে হয়েছে সর্বস্ব। এমনকি জন্মের পর থেকেই শ্বাসকষ্ট নিয়ে বড় হওয়া লায়ানের নেবুলাইজার পর্যন্ত সঙ্গে নেয়া সম্ভব হয়নি।
লায়ানার মা বলেন, আমার মেয়ে শ্বাসকষ্টের রোগী। তার নেবুলাইজার লাগে, ইনহেইলার লাগে, রাতে ওষুধ খেতে হয়, নাসাল স্প্রে দরকার। কোন কিছুরই ব্যবস্থা করতে পারিনি। এছাড়া ওকে বাঁচিয়ে রাখতে পারবো না। আমি শুধু আমার মেয়ের জন্য ওধুষের ব্যবস্থা করতে কারো সাহায্য চাইছি। এর বেশি আর কিছুই চাই না।
এমনই আরেক অসহায় ফিলিস্তিনি আব্দেল করিম। কিডনির অসুধ রয়েছে তার স্ত্রীর। কিন্তু ওষুধ বা উপযুক্ত খাবার অথবা পরিষ্কার পানি, কোনটিই যোগাতে পারছেন না তিনি। করিম বলেন, আমার স্ত্রীর মসুরডাল, শিম এই ধরণের খাবার বেশি খেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তার উপর ওর কোন ওষুধ নেই। ডায়ালাইসিস করার ব্যবস্থা নেই। খুবই কষ্টে আছে সে।
একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাবার হাত ধরে বহুদূর থেকে পানি সংগ্রহ করছে গাজার শিশুরা। জ্বালানি না থাকায় ঠেলে গাড়ি নিয়ে যান বাবা আন্তার আবু সাব। তিনি বলেন, কোথাও কোন পানি নেই। জ্বালানি নেই। শিশুরা পিপাসায় কান্না করছে। যে পানি আছে তা লবনাক্ত। এটি খেয়ে সবার ডায়রিয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তার খোঁজে গাজার নানা প্রান্ত থেকে মিশরের রাফাহ সীমান্তের কাছে এই শরণার্থী শিবিরে এসে জড়ো হয়েছে লাখো ফিলিস্তিনি। কিন্তু গাজার একটুকরো ভূমিও আর নিরাপদ নয়। এমন অনিশ্চয়তায় এক একটি দিন কাটাচ্ছে বাস্তুচ্যুত গাজার মানুষ।
তাদেরই একজন বলেন, আমার স্বামী নিখোঁজ। বাচ্চাদের নিয়ে প্রচণ্ড শীতে কাঁপতে কাঁপতে একটি করে রাত কাটাচ্ছি। বালুর মধ্যে শুয়ে আছি। কেউ আমাদের খাবার পর্যন্ত দিয়ে সাহায্য করছে না। কতোদিন কাটাবো এমন জীবন, এমন প্রশ্নের উত্তর জানা নেই কারো।
এমনই ভোগান্তির সব কথা শোনা যাবে গাজার বাতাসে কান পাতলেই। যুদ্ধ থেমে গেলেও এ দুর্দশা কাটবে না সহজে। কারণ ইসরাইলি বাহিনী হামলা চালিয়ে তাসের ঘরের মতো গুড়িয়ে দিয়েছে গাজার বেশিরভাগ সব অবকাঠামো। যুদ্ধের একটি করে দিন যাচ্ছে আর ইট, সিমেন্ট, বালুর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হচ্ছে পুরো ভূখণ্ডটি।
