হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের শুরু থেকেই লোহিত সাগরে মূর্তিমান আতংকের নাম হয়ে উঠেছে ইয়েমেনর সশস্ত্র বাহিনী- হুতি। হামাস ও ফিলিস্তিনি নাগরিকদের উপর ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিবাদ ও বন্ধের দাবিতে হুতি সেনারা একের পর এক হামলা চালিয়ে বিচলিত করে রেখেছে তেল আবিবকে।
সিনেমার গল্পকে হার মানানো কমান্ডো স্টাইলে ইসরাইলি মালিকাধীন পণ্যবাহিনী জাহাজ দখল করে গোটা বিশ্বের পিলে চমকে দেয় হুতি। এরপর ইসরাইলের আরও তিন জাহাজে মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে হামালা চালিয়ে হুতি তেল আবিবকে পরিস্কার বার্তা দেয়, হয় গাজায় হামলা বন্ধ কর, নাহলে পরিণতি বরণ কর।
সেই তিন জাহাজে হামলার পর হুতি সেনাদের মুখপাত্র হুশিয়ারী দেয়, শুধু ইসরাইলের নয়, দেশটির দিকে যাওয়া যে কোন জাহাজ পরিণত হবে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে। তাদের এই হুশিয়ারী যে শুধু মুখের কথাই ছিল না, তার প্রমাণও দিলো হুতি যোদ্ধারা। এবার আক্রমণ করেছে একটি নরওয়েজিয়ান জাহাজকে।
হুতির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি মঙ্গলবার জানান, ইয়েমেন উপকূলের কাছ দিয়ে যাওয়া নরওয়ের পতাকাবাহী একটি ট্যাঙ্কারে হুতি বিদ্রোহীরা ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। সব ধরনের সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করায় ট্যাঙ্কারিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলেও দাবি করেছেন তিনি৷
একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্ট্রিন্ডা নামের ঐ ট্যাঙ্কারে ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে। স্ট্রিন্ডা ট্যাঙ্কার পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান নির্বাহী গায়ার বেলসনেস হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন৷ তবে কোন হতাহত হয়নি।
মালয়েশিয়া থেকে পাম তেল নিয়ে সুয়েজ খাল হয়ে ইতালি যাচ্ছিল স্ট্রিন্ডা৷ হুতির সামরিক মুখপাত্র সারি দাবি করেছেন স্ট্রিন্ডা ইসরাইলে যাচ্ছিল। যদিও এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ দেননি তিনি। সারি আরও জানান, গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে তারা স্ট্রিন্ডা নামের ওই বাণিজ্যিক জাহাজটিতে হামলা চালিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, বাব আল-মানদাব প্রণালী থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল উত্তরে স্ট্রিন্ডা নামের ট্যাংকারটি হামলার শিকার হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে যায় মার্কিন নৌ যুদ্ধজাহাজ মেসন। পরে অবশ্য মিসাইল হামলার শিকার স্ট্রিন্ডা কয়েক ঘন্টা পরেই সেখান থেকে চলে যায়।
টানা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে গাজায় আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরায়েল। তাদের এই বর্বর হামলার মধ্যেই ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠী বেশ ভালোভাবেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। এমনকি দিন দুয়েক আগে ইসরাইলগামী সব জাহাজে হামলার হুমকি দেয় গোষ্ঠীটি।
হুতি লোহিত সাগর ও ওই সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে ইসরাইলিসংযুক্ত বেশ কটি জাহাজে আক্রমণ চালানোর পাশাপশি জব্দের দাবিও করেছে। জানিয়ে রেখেছে, ইয়েমেন উপকূল দিয়ে ইসরাইলমুখী জাহাজ চলাচল প্রতিরোধ করা হবে। এই সমুদ্রপথ দিয়ে বিশ্বের বেশিরভাগ তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে।