লোহিত সাগরের সাক্ষাৎ যমদূত ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠি- হুতি। ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে লোহিত সাগরকেই বেছে নিয়েছে তারা। হুতিদের তাণ্ডবে সাগরে চলাচলে রীতিমতো ভয় পাচ্ছে জাহাজগুলো। দুটি তেলবাহী ট্যাংকার আর একটি পণ্যবাহী জাহাজে ক্রুজ মিসাইল আর ড্রোন হামলার এবার একটি কার্গোতেও হুতির হামলার খবর দিয়েছে বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের আকাশ হামলায় ওই জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার এ তথ্য জানান মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান। তিনি জানান, ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে হামলার ব্যাপারে অবগত আছেন তারা। এমনকি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হুতিকে হুমকি হিসেবে দেখছেন এই মার্কিন কর্মকর্তা।
সমুদ্র নিরাপত্তা বিষয়ক বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থা আমব্রে জানায়, যে জাহাজে হামলা চালানো হয়, সেটি জার্মান পরিবহন সংস্থা হাপাগ-লয়েডের। জাহাজটি আকাশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলা হয়েছে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের মোচা শহর থেকে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, হামলার পর ওপর থেকে নিচে পড়ে যায় একটি কনটেইনার। এছাড়া জাহাজের ডেকেও ধরে যায় আগুন।
এর আগে লোহিত সাগরে ইসরাইলি মালিকাধীন একটি পণ্যবাহী জাহাজকে সিনেমা স্টাইলে আক্রমণে চালিয়ে দখলে নিয়ে গোটা বিশ্বকে চমকে দেয় হুতি বিদ্রোহীরা। ইরান সমর্থিত হুতিদের একটাই কথা, ইসরাইলগামী যে কোনো জাহাজে হামলা চালাবে তারা। জাহাজটি কোন দেশের সেটি আমলে নেবে তারা।
এমন হুমকির পর প্রায় প্রতিদিনই লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটছে। হামলার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার পর লোহিত সাগর ও আশপাশের অঞ্চলে টহল বাড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের যুদ্ধাজাহাজ। হুথিদের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসও করেছে যুদ্ধজাহাজগুলো।
লোহিত সাগরের যে অঞ্চলে হুথিরা হামলা চালাচ্ছে, সেটি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথ। মিসরের বিখ্যাত সুয়েজ খাল দিয়ে যে জাহাজগুলো চলাচল করে সেগুলো এখান দিয়েই যায়।