উড়োজাহাজের আসনে যাত্রীর বদলে ৮০ বাজপাখি!

ধনীদের শখের অভাব নেই। এজন্য তারা কোটি কোটি ব্যয় করতেও পিছপা হন না তারা। এবার নিজের শখ মেটাতে নিজের ৮০টি বাজপাখিকে উড়োজাহাজে চড়িয়ে ভ্রমণ করিয়েছেন এই সৌদি যুবরাজ। ঘটনাটি ছয় বছর আগের হলেও, এটি প্রকাশ্যে এসেছে সবেমাত্র, তাও সামাজিক মাধ্যমের বদৌলতে।

রীতিমতো ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক উড়োজাহাজের আসনে যাত্রীর বদলে বসে আছে বাজপাখি। তাদের পায়ে দড়ি বাঁধা, মাথায় হুড। ঘটনাটি বড়ই অদ্ভুত হলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্লেনে করে বাজপাখি নিয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়। আর বাজপাখি মাধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ঐতিহ্যের প্রতীক। 

সৌদির এক যুবরাজ তার ৮০টি বাজপাখির প্রত্যেকটির জন্য বিমানের ৮০টি টিকিট কিনেছিলেন। উড়ানের সময় যাতে পাখিগুলোর অসুবিধা না হয় ও নিরাপদে থাকে, তার জন্য ওই যুবরাজ সব পাখির জন্য আলাদা টিকেট কেনেন। উড়তে না পারার জন্য সব পাখির মাথায় ‘হুড’ ও পায়ে ‘আংটা’ পড়ানো ছিলো।

সাথে করে বাজপাখি নিয়ে উড়োজাহাজ ভ্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের কাছে নতুন কিছু না হলেও, এভাবে সব পাখির জন্য আলাদা টিকেট ক্রয়ের ঘটনা বিরল বলেই ইতিহাস বলছে। বিষ্ময়ের আরও কিছু বাকি আছে। আলাদা টিকেট ক্রয়ের জন্য সব কটি বাজপাখির পাসপোর্টও করিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ। 

বাজপাখি শিকার প্রতিযোগিতা থাকলেই সাধারণত দেশের বাইরে নিয়ে যান তাদের মালিকরা। তবে এই সৌদি যুবরাজ তেমন কোন সফরে গিয়েছিলেন কিনা জানা যায়নি। তবে যে কোন সময় প্রিয় বাজপাখি নিয়ে যাতে সফরে যেতে পারেন, সেজন্য তিনি পাসপোর্ট করিয়ে রেখেছিলেন। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় পাখি বাজপাখি। যার কারণে আরও কয়েকটি উপসাগরীয় এয়ারলাইনসে এই পাখিদের পরিবহনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমিররাতে প্রায়ই বাজপাখি শিকার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। যা দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পর্যটক দেশটি সফর করে থাকেন।

উড়োজাহাজ পাইলটের থেকে ছবিটি পেয়ে সমাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন রেডিট রেনসো নামে এক ব্যক্তি। তবে ছবিগুলো ছয় বছরের পুরনো। ফ্যালকন গোত্রের কয়েকটি প্রজাতির বাজপাখিকে পোষ মানিয়ে তাদের দিয়ে তিতির, খরগোশ শিকার করানোর রেওয়াজ রয়েছে রাজপরিবারগুলির সদস্যদের মধ্যে।

পোষ মানানো বাজপাখি নিয়ে শিকার প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয় এশিয়া এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশে। এ খেলার পোশাকি নাম ফ্যালকনারি। মূলত, আরব রাজপরিবার এবং ধনী ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন। সৌদি আরবের ওই রাজপুত্রও তেমনই কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে।