ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ভয়ে লোহিত সাগরে জাহাজ না চালানোর ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় দুই জাহাজ কোম্পানি। এই খবরে নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ব বাজার। যদি এই পথে জাহাজ না চলাচল করে, তা হলে বিপর্যয় নেমে আসবে পণ্য পরিবহনে, এতে বড় ক্ষতিতে পড়তে পারে ইসরাইল।
এমন ধাক্কা পশ্চিমাদের হজম হতে না হতেই খবর এলো, সোমালিয়ার উপকূলে আবারও ছিনতাই পণ্যবাহী জাহাজ। ছিনতাইয়ের পরে জলদস্যুরা জাহাজটিকে সোমালিয়ার তীরের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। গিয়েছে। এমভি রুয়েন নামে মাল্টার ওই পণ্যবাহী জাহাজটিতে ক্যাপ্টেনসহ ১৮ জন নাবিক রয়েছেন।
তবে, জাহাজটি থেকে জরুরি বার্তা পেয়ে সাড়া নিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী। এডেন উপসাগরে মোতায়েন করা ভারতীয় নৌসেনার একটি টহলদার জাহাজ আরব সাগরের ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিনতাই হওয়া পণ্যবাহী জাহাজটিকে মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো।
এমভি রুয়েন থেকে বিপদ সংকেত পাওয়া মাত্রই সাড়া দেয় ওই অঞ্চলে নজরদারির দায়িত্বে থাকার ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি বহর এবং নৌবাহিনীর সামুদ্রিক টহল উড়োজাহাজ। এডেন উপসাগরে জলদস্যুদের হাত থেকে জাহাজ চলাচলকে নিরাপদ রাখতে কাজ করে থাকে ভারতের এই নৌ ইউনিটটি।
শুক্রবার সকালেই ভারতের একটি এয়ারক্রাফট ছিনতাই হওয়া জাহাজটি উপর দিয়ে বেশ কয়েকবার উড়ে যায়। সোমালিয়া উপকূলের পথে জাহাজটির চলাচলের উপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে এয়ারক্রাফটি। জানা গেছে, ছয় জন জলদস্যু সিনেমা কায়দায় স্পিডবোট নিয়ে জাহাজটির ডেকে উঠে পড়ে।
শনিবার ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, শুক্রবার খবর পেয়ে জাহাজটির কাছে পৌঁছে গেছে নৌ-সেনাদের জলযান। উল্লেখ্য, এক সময় সোমালিয়ার জলদস্যুদের আতঙ্কে থরথর করে কাঁপতেন আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্যের কারবারিরা। ২০১১ সাল ছিল আফ্রিকা উপকূলে সমুদ্র বাণিজ্যের সব চেয়ে অভিশপ্ত বছর।
সে বছর মোট ২৩৭টি জাহাজ আক্রমণ করেছিল সশস্ত্র সোমালি জলদস্যুরা। তারপর থেকে এডেন উপসাগর জুড়ে আন্তর্জাতিক সেনা তৎপরতা বাড়ে। কোণঠাসা হয়ে পড়ে জলদস্যুরা। এতে করে কিছুদিন বন্ধ থাকে জলদস্যুদের তৎপরতা। তবে, গেলো কয়েক মাসে আবারও জলদস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, আরব ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে সরাসরি প্রভাব পড়বে পণ্যের বাজারে। কারণ, ঘুরা পথে জাহাজ চলানোর ফলে পরিবহন খরচ হবে আকাশচুম্বী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর যদি, এই দুই সাগরও অনিরাপদ হয় তাহলে সেটি হবে ভয়াবহ।