নিউইয়র্ক টাইমসের দাবি

অত্যাধুনিক পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন!

রাশিয়ার পর এবার চীনও অতি শক্তিশালী পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালানোর ব্যবস্থা পাকা করে ফেলেছে বলে দাবি করেছে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো। চীনের সবচেয়ে পরমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষাগারটি নাকি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে আমেরিকার প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস। উপগ্রহের চিত্রকে সাক্ষী রেখেই পত্রিকাপির দাবি, চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে লপ নুর পরমাণু কেন্দ্রটিতে নড়াচড়ে আগের চেয়ে বেড়েছে। 

যদি খবর সত্যি হয়, তাহলে আমেরিকা ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের হাঁটুতে কাঁপন ধারানোর মতোই তথ্য দেয়া হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণু অস্ত্র তৈরিতে ঈর্ষনীয় দক্ষতা অর্জন করেছে চীন। দেশটির ভান্ডারে এমন সব দূরপাল্লার মিসাইল রয়েছে, যার প্রতিটিই পাড়ি দিতে এক মহাদেশ থেকে আরেক মহাদেশ। শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুতগতির এসব ব্যালাস্টিকু মিসাইল পরমাণু বোমা বহনেও সক্ষম। 

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবশেষ উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষক করে দেখা যাচ্ছে, চীনের উত্তর-পশ্চিমে স্বায়ত্তশাসিত পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাগারটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেখানেই হবে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা। তা থেকেই মনে করা হচ্ছে, চীন পুরোদমে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাসায়নিক বিস্ফোরকের মাধ্যমে পরমাণু বিস্ফোরণের চেষ্টা করছে। সে জন্য কেন্দ্রটিকে মানুষ ও যানের চলাচলও বেড়ে গেছে। 

উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, চীন কিছু আধুনিক মানের ব্যালিস্টিক ও জাহাজ থেকে ছোড়ার পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে। এবার সেগুলো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। লপ নুরের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাগারের উপগ্রহ চিত্র নিয়ে বছরের পর বছর ধরে গবেষণা করে আসছেন রেনি বাবিয়ার্জ। তিনি, আগে পেন্টাগনের হয়ে কাজ করেছেন। সেই রেনিই এবার লপ নুরের সক্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তার দাবি, গত কয়েক বছর ধরে লপ নুরের অনেক উন্নতি ঘটেছে। আগে সেখানে ছিল অল্প কয়েকটি বাড়ি। ২০১৭ সালের মধ্যে তা ছিমছাম, অত্যাধুনিক আবাসনে পরিণত হয়। নতুন ওই এলাকায় একটি বাঙ্কারও রয়েছে। লপ নুরের পরমাণু কেন্দ্রের আশপাশে নতুন বিমানঘাঁটি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, প্রায় ৯০ ফুট গভীর কূপ খনন করার চেষ্টা চলছে। উপগ্রহ চিত্রে ড্রিল পাইপের অবস্থানও লক্ষ্য করা গিয়েছে।

পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার কথা বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে চীন। দেশটির সংবাদ মাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সত্যতা উড়িয়ে দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন- এই তিন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনটি পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রে এমন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, যা কয়েক বছর আগেও দেখা যেত না। 

চীনের পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রটির অবস্থান জিনজিয়াং প্রদেশে, রাশিয়ারটি আর্কটিক সাগরের দ্বীপপুঞ্জে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রটি নেভাডা মরুভূমিতে। এই তিন কেন্দ্রের গত তিন থেকে পাঁচ বছরের ছবি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ভূগর্ভস্থ পরীক্ষার জন্য ব্যবহৃত সুড়ঙ্গ নির্মাণ, নতুন সড়ক ও মজুদখানার উন্নয়ন করা হচ্ছে। যানবাহন চলাচল এবং যাতায়াতের হারও বেড়েছে।