দ্বীপ নিয়ে দ্বন্দ্ব, তেহরানে রুশ কূটনীতিককে তলব

পারস্য উপসাগরে বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জে ইরানের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করার পরে তেহরানে নিযুক্ত রুশ চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

শনিবার ইরানের পারস্য উপসাগর বিষয়ক মহাপরিচালক রুশ কূটনীতিককে তার দপ্তরে তলব করেন। খবর বার্তা সংস্থা এপি'র। 

এর আগে বৃহস্পতিবার পারস্য উপসাগরের তিনটি দ্বীপ আবু মূসা, গ্রেটার তুম্ব ও লেসার তুম্বের মালিকানা প্রশ্নে কয়েকটি আরব দেশ ও রাশিয়া যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে। মরক্কোয় আরব-রাশিয়া সহযোগিতা ফোরামের ৬ষ্ঠ বৈঠক থেকে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে দ্বীপগুলোর ওপর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানা দাবি করা হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এনিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে রুশ চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে বলেন, রাশিয়া বেশ কিছুদিন ধরেই ওই তিন দ্বীপের মালিকানা প্রশ্নে আরব দেশগুলোর ভিত্তিহীন অভিযোগকে সমর্থন দিয়ে আসছে যা তেহরানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

এসময় রুশ চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স ইরানের অবস্থানের কথা মস্কোকে অবিলম্বে জানিয়ে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

তেহরান বলছে, পারস্য উপসাগরে অবস্থিত তিনটি দ্বীপ আবু মূসা, গ্রেটার তুম্ব ও লেসার তুম্ব ঐতিহাসিকভাবে ইরানের অংশ। বিভিন্ন ঐতিহাসিক দলিলে সুস্পষ্টভাবে ওই তিন দ্বীপকে ইরানের অংশ বলে বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাত কয়েক দশক ধরে দ্বীপগুলোকে নিজের বলে দাবি করে আসছে।

১৯২১ সালে পারস্য উপসাগরের ওই তিন দ্বীপ ব্রিটিশ সেনারা দখল করে নেয়। কিন্তু ১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর ব্রিটিশ বাহিনী পারস্য উপসাগরীয় এলাকা ত্যাগ করার পর এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত নামক রাষ্ট্র ঘোষিত হওয়ার দু’দিন আগে দ্বীপগুলোর ওপর ইরানের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

সবশেষ ২০২২ সালে আরব দেশগুলোর সাথে অনুরূপ যৌথ বিবৃতিতে সম্মতি দিয়েছিল চীন। সে সময় চীনা রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল তেহরান।