তথ্য প্রযুক্তির জগতে মাফিয়াদের নাম- হ্যাকার। তাদের উৎপাতে ত্রাহি অবস্থা বিশ্বের ছোট থেকে বড় প্রায় সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের। হ্যাকারদের হামলা থেকে বাঁচতে প্রতিদিন কাড়ি কাড়ি টাকা গুণতে হচ্ছে ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানকে। হ্যাকিং থেকে বাঁচতে কড়া কড়া আইনও করেছে বিভিন্ন দেশ।
হ্যাকাররা সাধারণত কোন কম্পিউটার সিস্টেমের মধ্যে ঢুকে ডাটা চুরি করে, অর্থ হাতিয়ে নেয়, কিংবা সাইট হ্যাক করে পণও আদায় করে। এসব অপরাধে ব্রিটেনে বড় ধরনের সাজা হয়। সম্প্রতি দেশটির এক কিশোর হ্যাকারকে তথ্য চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়।
তবে, আলোচনা সেই নিয়ে নয়, শিরোনাম হয়েছে কিশোরটিতে দেয়া সাজার ধরনটি। আদালতের বিচারক তাকে কারাবাসে না পাঠিয়ে সোজা হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বিচারকের মনে হয়েছে, কিশোরটির মানসিকভাবে সুস্থ নয়, তাই মানসিক চিকিৎসা করানো প্রয়োজন, তাই পাঠানো হলো হাসপাতালে।
গত বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের সারে প্রদেশের গিল্ডফোর্ড ক্রাউন আদালত এই সাজা দিয়েছে ১৮ বছর বয়সি এক যুবককে। ওই যুবকের বাড়ি অক্সফোর্ডে। অটিজমে ভুগছে। তবে দারুণ মেধাবী সে। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই যা ভেলকি দেখিয়েছে কিশোরটি, তাতেই চোখ কপালে উঠেছে সবার।
সদ্য মুক্তি পেয়েছে জনপ্রিয় কম্পিউটার গেম জিটিএ ৬-এর ট্রেলার। কিন্তু ট্রেলার মুক্তি পাবার আগেই গেমিং সংস্থার ডেটাবেস হ্যাক করে, ৯০টি ভিডিও ক্লিপ চুরি করে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে এই তরুণ হ্যাকারের বিরুদ্ধে। ল্যাপসাস নামে এক কুখ্যাত সাইবার ক্রাইম গ্যাংয়ের সদস্য এই কিশোর।
ডেটা চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় কিশোরটিতে। কিন্তু হেফাজতে থাকার সময়ই সে নিজের শরীরের একাধিক চোট লাগিয়ে ফেলে। অন্যদেরও কমবেশি জখম করে। বেশ কিছু সম্পত্তিও নষ্ট হয়ে। আদালতেও পেশ করতে সমস্যা হচ্ছিল যুবককে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল বিচারিক কার্যক্রম।
চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, অটিজমের জটিল সমস্যা থাকার কারণে আদালতে পেশ করা সম্ভব নয় তাকে। এরপরই আদালত জানিয়ে দেয়, কিশোরটিকে যেতে হবে হাসপাতালে। যতক্ষণ না চিকিৎসকরা বলছেন, আসামি সমাজের জন্য নিরাপদ, ততক্ষণ হাসপাতালেই থাকতে হবে।