গাজার প্রতি সংহতি, বড়দিনের উৎসব বাতিল করলো সিরিয়া

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি জানিয়ে বড়দিনের উৎসব বাতিল করেছে সিরিয়ার খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। 

আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর সিরিয়ার কেন্দ্রীয় জেলা আজিজিয়ায় প্রতি বছর উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয় বড়দিন। জেলার রাস্তাগুলো আলোয় সজ্জিত থাকে। কিন্তু এ বছর আজিজিয়ার মূল চত্বরটি প্রায় খালি পড়ে আছে।  

আলেপ্পোর সিরিয়াক ক্যাথলিক আর্চবিশপ মোর ডায়োনিসিয়াস আন্তোইন শাহদা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, যিশু খ্রিস্টের জন্মস্থান অর্থাৎ ফিলিস্তিনে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গাজায় ইসরাইলি বোমা হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি জানিয়ে আমাদের গির্জাগুলো বড়দিনের সমস্ত আনুষ্ঠানিক উদযাপন এবং সংবর্ধনা বাতিল করেছে।

কেবলমাত্র সিরিয়াক ক্যাথলিক চার্চই নয়, সিরিয়ার তিনটি প্রধান চার্চ- গ্রিক অর্থোডক্স, সিরিয়াক অর্থোডক্স এবং মেলকাইট গ্রিক ক্যাথলিক প্যাট্রিয়ার্ক ঘোষণা করে যে তারা বড়দিনের উৎসব বাতিল করছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যেই বড়দিনের উদযাপন সীমিত রেখেছে চার্চগুলো৷

চার্চগুলোর পক্ষ থেকে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, বিশেষ করে গাজা পরিস্থিতির কারণে বড়দিন এবং নববর্ষের শুভেচ্ছা গ্রহণ না করার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।  

২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে দেশটি ছিলো ১২ লাখেরও বেশি খ্রিস্টানদের আবাসস্থল। যদিও যুদ্ধ শুরুর পর বিপুলসংখ্যক খ্রিস্টান ও মুসলমান সিরিয়া ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।   

দামেস্কের বাসিন্দা রাচেল হাদ্দাদ জানান, তিনি দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তার ফোনে আটকে ছিলেন, গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের খবর পড়েছিলেন এবং ক্রিসমাস ট্রির কথা তার মন ছিলো না।

৬৬ বছর বয়সী এই খ্রিস্টান বলেন, এই বছরটি খুব দুঃখের ছিলো। বছরটি তুরস্ক ভূমিকম্পের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এবং গাজা যুদ্ধের মাধ্যমে শেষ হচ্ছে। আনন্দের কোনো সুযোগ ছিলো না। 

এর আগে অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

ফিলিস্তিনের বাইতুল লাহাম বা বেথেলহেমে জন্মগ্রহণ করেছিলেন যিশু। বেথলেহেম জর্দান নদীর পশ্চিম তীর অঞ্চলের একটি শহর। আরবি ভাষাতে শহরটিকে বাইত লাহাম নামেও ডাকা হয়। দীর্ঘ কয়েকদশক ধরে শহরটি অবৈধভাবে দখলে রেখেছে ইসরাইল। বাইবেলের পাশাপাশি মুসলমানদের কুরআনেও বেথলেহেমকেই যিশুর জন্মস্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।