ইসরাইলি হামলায় আরও ১৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত

ইসরাইলি বাহিনীর ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গাজা উপত্যকায় এক সাংবাদিকসহ নিহত হয়েছেন ১৮৭ ফিলিস্তিনি। এতে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫০৭ জনে। শুক্রবার হামলা হয়েছে গাজা উপত্যকার মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে। তবে হামাসও সমানতালে হামলার জবাব দিচ্ছে। 

নতুন করে হামাসের একটি টানেলও ধ্বংস করেছে তেল আবিব। পাশাপাশি গাজায় লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট।

গাজায় ইসরাইলি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হামাস। এতে দেখা গেছে, গাজা অঞ্চলে ইসরাইলি ট্যাংক, সাঁজোয়া যান এবং সেনাদের সাথে তুমুল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কিছু জায়গায় হামাস যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসরাইলি সেনাদের ব্যাপক লড়াই চলছে। ইসরাইলি সেনাদের সঙ্গে হামলার একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছে হামাস।
পাল্টা হামলা হিসাবে গাজা উপত্যকার মধ্যাঞ্চলে বড় পরিসরে অভিযান শুরু করেছে ইসরাইল। বুরেজি, নুসেইরাত ও মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে বিমান ও গোলা হামলা চালিয়েছে তারা। আবাসিক ভবন লক্ষ্য করেও হামলা হয়েছে। একই সাথে গাজার দক্ষিণের সবচেয়ে বড় শহর খান ইউনিসের একটি হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। 

সেখানে উদ্বাস্তু বেশ কিছু ফিলিস্তিনি ঠাঁই নিয়েছিলেন। এছাড়া দক্ষিণ গাজার রাফার কুয়েতি হাসপাতালের কাছে আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। 

হামলার আতঙ্কে বাসিন্দারা গাজার দক্ষিণ দিকে পালিয়ে যাচ্ছেন। হামলার মধ্যেই বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

এদিন হামলা হয়েছে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী গাড়িবহরেও। গাজার উত্তরাঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে ফেরার সময় গাড়িবহরটিতে হামলা করেছে ইসরাইলি সেনারা।

এত দিন গাজা নগরসহ ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকাটির উত্তর ও দক্ষিণে হামলার তীব্রতা ছিল বেশি। জাতিসংঘ বলছে, টানা হামলায় নতুন করে বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন লক্ষাধিক ফিলিস্তিনি।

এসবের মধ্যেই গাজায় হামাসের নতুন টানেল নেটওয়ার্কের ভিডিও প্রকাশ করেছে ইসরাইল। হামাসের কেন্দ্রীয় সদর দফতরের এলাকা থেকে টানেলগুলো উত্তর গাজা পর্যন্ত বিস্তৃত। 
ইসরাইলের সেনাবাহিনী বলছে, টানেলগুলোতে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক, লিফট, বায়ুচলাচল এবং পয়ঃনিষ্কাশন অবকাঠামো, প্রার্থনা এবং বিশ্রামের কক্ষ রয়েছে। এরইমধ্যে এটি ধ্বংসও করেছে তারা।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত হামলা চলবে। এখন আমরা খান ইউনিস এলাকায় মনোযোগ বাড়িয়েছি। আমাদের লক্ষ্য সুনির্দিষ্ট। ফলাফল আসতেও সময় লাগছে না।

এদিকে, জাতিসংঘের ফিলিস্তিন বিষয়ক শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, ত্রাণবাহী গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। গাজার উত্তরাঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে ফেরার সময় গাড়িবহরটিতে হামলা করে ইসরাইলি বাহিনী। 

ইসরাইলের পক্ষ থেকে এই পথ দিয়ে ত্রাণবাহী গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, হামলায় একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।