মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে ফিলিস্তিনি শিশুরা

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজার শরণার্থী শিশুরা চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মৃত্যু, ক্ষুধা, পরিবার হারানোর শোকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে তারা।

এমন অবস্থায় শিশুদের মনে পরিবর্তন আনতে আর যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে রাখতে শরণার্থী শিবিরে ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন তারেক আল নাউমি নামে এক শিক্ষক।

এক সময়ের বিদ্যালয় ভবন আর শ্রেণীকক্ষটি এখন শরণার্থীদের আশ্রয়স্থল। দিনভর ছুটোছুটি করতো শিশুরা আর এখন সেখানেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা একটুখানি খাবার আর পানির।

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার এটাই এখন বাস্তবতা। ৯ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইসরাইলি বাহিনীর নির্মমতার শিকার বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ভূখণ্ডটি।

এক ফিলিস্তিনি শিক্ষক বলেন, আগে এখানেই নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পড়াতাম। আর এখন চারপাশে ক্ষুধার্ত শিশুরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। এটা খুবই মর্মান্তিক ব্যাপার। 
যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছে শিশু আর তাদের মায়েরা। পরিবার হারিয়ে, সহপাঠী আর সহোদর হারিয়ে দিশেহারা শরণার্থী শিবিরের শিশুরা।

স্কুলে যাওয়ার বয়সে যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো বাস্তবতায় কাটছে তাদের দিন। আর এটা উপলব্ধি করেই বাস্তুচ্যুত শিশুদের ব্যস্ত রাখার চেষ্টায় নিয়মিত ইংরেজি ক্লাস নিচ্ছেন তারেক আল নাউমি নামের এই শিক্ষক।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই শিশুরা সীমাহীন মানসিক চাপ আর হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তারা যে ধ্বংসযজ্ঞ, মৃত্যু আর যন্ত্রণা দেখছে তা তাদেরকে অস্বাভাবিক করে তুলছে।

যুদ্ধের আগে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলের আল জায়তুন এলাকার আল হুরিয়া স্কুলে ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করতেন তারেক আল নাউমি। কিন্তু ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ওই স্কুল।

তিনি বলেন, বাচ্চাদেরকে এখানে পড়ানোর উদ্যোগটা আমি ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছি। শিশুরা আগ্রহ দেখিয়েছে এবং এখন তারা পরবর্তী ক্লাসের জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকে।

এদিকে, শিশুরা বলছে, অনেক হয়েছে যুদ্ধ। এবার স্কুলে ফিরে যেতে চায় তারা। তাদের কথা, সব শিশুর মতো আমাদেরও পড়ালেখা করার, স্বাভাবিক জীবন কাটানোর অধিকার আছে।

আর যে কতো তার উত্তর এখনো কেউই দিতে পারছে না। নয় সপ্তাহের ইসরাইলি হামলায় একুশ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনির মৃত্যু আর ৮০ শতাংশ বাস্তুহারা হওয়ার পরও এ সংঘাতের শেষ অনিশ্চিত।