দুই দিনে ইউক্রেনে দুই শতাধিক রুশ হামলা

নতুন বছরের শুরুতেই ইউক্রেনকে কঠিন বার্তা দিলো রাশিয়া। গেলো দুই দিনে ইউক্রেনজুড়ে প্রায় দুই শতাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে পুতিনের দেশ। এসব হামলায়, কমপক্ষে অর্ধ-শতাধিক ইউক্রেনীয় সেনা সদস্য ও বেশ কিছু বেসামরকি নাগরিক নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে শতাধিক। 

মঙ্গলবার ভোরেও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানান, মঙ্গলবার সকালে শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ থেকে কিয়েভের ডেসনিয়ানস্কি জেলায় কিছু স্থাপনায় আগুন ধরে যায়। 

সবশেষ এই রুশ হামলার পর কিয়েভ ছাড়াও খেরসন এবং মাইকোলাইভ ও অন্যান্য শহরেও বিমান সতর্কতা জারি করেছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী। দক্ষিণ ইউক্রেনের মাইকোলাইভের মেয়র বলেছেন, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লেগেছে।

এর আগে সোমবার নতুন বছরের শুরুতেই, ইউক্রেনে ৯০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া। রোববার রাত থেকে সোমবারের মধ্যে এই হামলা চালাযনো হয়। ড্রোন হামলায় ১৫ বছরের এক কিশোর মারা গেছে। এছাড়া আহত হয়েছেন সাত জন। হামলার জেরে বন্দর এলাকায় আগুনের ঘটনাও ঘটে। 

পশ্চিম ইউক্রেনের লাভিভ শহরে রুশ ড্রোনের আঘাতে একটি মিউজিয়াম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জবাবে ইউক্রেনে রাশিয়ার দখলকৃত এলাকায় হামলা চালায় কিয়েভ। তাতে চার জন মারা যান। আহতের সংখ্যা ১৩। রাশিয়া জানিয়েছে, এই হামলায় সাংবাদিকও আহত হয়েছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনী বলেছে, সব মিলিয়ে লাভিভে রাশিয়া ৯০টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে তারা ৮৭টি ড্রোন ভূপাতিত করার দবি করেছে। তবে এমন দাবির বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনের সেনা কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, তারাও এসব হামলার জবাব দিয়েছেন। 

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে শতাধিক শক্তিশালী মিসাইল ছোঁড়ে রাশিয়া। এর একদিন পরেই রাশিয়ার ভেতরেও মিসাইল হামলা চালায় ইউক্রেন। রুশ বাহিনীর চালানো হামলায় মারা গেছেন অন্তত ৪০ জন ইউক্রেন সেনা। 

ইউক্রেনের বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি শহর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ঘোষণা দিয়েছেন, রুশদের মোকাবেলায় নতুন বছরে ব্যাপক হারে অস্ত্র উৎপাদনে যাবে তার দেশ। এছাড়া ১০ লাখ ড্রোন কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে ইউক্রেন।