অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলায় ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মুখোমুখি হয়েছে ইসরাইল। গত ২৯ ডিসেম্বর ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার আইসিজেতে গণহত্যা অভিযোগের জবাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেবে ইসরাইল।
এর আগে বৃহস্পতিবার এই মামলার প্রথমদিনের শুনানিতে দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবী ও প্রতিনিধিরা জানান, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ফিলিস্তিনি জনসংখ্যাকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে একটি রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন গণহত্যা।
তাদের অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে গাজা উপত্যকাকে গুঁড়িয়ে দেয়ার বিষয়ে ইসরাইলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ ছিলো। তারা অবিলম্বে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ জারি করতে আদালতের প্রতি আহবান জানান।
ইসরাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ
গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। ইসরাইলি বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। এমনকি হামলা থেকে বাদ যায়নি হাসপাতাল, স্কুল ও শরণার্থী শিবির।
এ ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা বলছে, গাজায় ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, কোনো গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা করা বা শারীরিক-মানসিক ক্ষতিসাধন, আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো, নতুন মানবশিশুর জন্মে বাধাদান ও উদ্বাস্তুতে পরিণত করার মতো ব্যাপারগুলোকে গণহত্যা চালানোর উপায় বলে মনে করা হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার দাবি
দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজীবীরা বলছেন, গাজায় চলমান ইসরাইলি আগ্রাসন এখনই বন্ধ করতে হবে।
ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তার জন্য জেনোসাইড কনভেনশনের লঙ্ঘনকারী ইসরাইল যেন কোনোভাবেই দায়মুক্তি না পায়, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
আত্মপক্ষ সমর্থনে যা বলছে ইসরাইল
দক্ষিণ আফ্রিকার সব অভিযোগ অস্বীকার করে ইসরাইল বলছে, তারা 'আত্মরক্ষার্থে' গাজায় হামলা চালিয়েছে।
গণহত্যার মামলা দায়ের করায় দক্ষিণ আফ্রিকার নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইলকে এমন এক সময় গণহত্যার জন্য দোষারোপ করা হচ্ছে যখন রাষ্ট্রটি হামাসের চালানো গণহত্যার বিরুদ্ধে লড়াই করছে।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ গাজায় যথাসম্ভব নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইসরাইলের সুরে একই ধরনের যুক্তি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, গণহত্যার মামলায় আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে ইসরাইল।
এরইমধ্যে মালয়েশিয়া, তুরস্ক, জর্ডান, বলিভিয়া, মালদ্বীপ, নামিবিয়া, পাকিস্তান, কলম্বিয়া এবং ওআইসি-র সদস্য রাষ্ট্রগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষ অবস্থান নিয়েছে। এতে ইসরাইলের বিপদ বাড়ছে।