একইসাথে ফিলিস্তিনি বেসামরিক ও হামাস সদস্যদের বেঁচে থাকার জন্য কাজে লাগতে পারে এমন সব সরঞ্জাম গাজার সীমান্তে আটকে দিচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। প্রতিটি ট্রাকে কড়া তল্লাশির পরই পাচ্ছে গাজায় প্রবেশের অনুমতি। তবে এসব ট্রাক থেকে নামিয়ে রাখা হচ্ছে পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আর অস্থায়ী তাঁবুর মতো অতি প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এদিকে পর্যাপ্ত ত্রাণ না পেয়ে বেঁচে থাকার লড়াই আরও কঠিন ওঠে উঠছে গাজা উপত্যকায়।
গাজার হাসপাতালগুলোতে নেই শয্যা, নেই চিকিৎসা সরঞ্জাম। কিন্তু চিকিৎসা পাওয়ার আশায় সারাদিনই একের পর এক আহত রোগী ভর্তি হচ্ছে। তাদের জায়গা হচ্ছে হাসপাতালের করিডোর ও বারান্দার মেঝেতে।
নাসের হাসপাতালের পরিস্থিতি খুবই বাজে। এখানে কোনো ওষুধ নেই। যে কোনো ওষুধ চাইলে চিকিৎসকরা বলছেন, তাদের কাছে সেটা নেই।
এমনকি গুরুতর আহত রোগীদেরও সেবা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের একজন বলেন, কে দেখে বলবে এটা একটা হাসপাতালের আইসিইউ। জরুরি কক্ষে চিকিৎসা দিতে যেসব ওষুধ লাগে তার কিছুই নেই আমাদের কাছে। আমরা প্রতিটি ওষুধেরই বিকল্প দিয়ে কাজ চালানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু এগুলো খুব একটা কার্যকর হচ্ছে না।
নেই বিদ্যুতেরও ব্যবস্থা। ফোনের লাইট ব্যবহার করে রোগীদের দেখছেন চিকিৎসকরা।
আরেক চিকিৎসক বলেন, অবশিষ্ট যা আছে সেসব দিয়েই কাজ করছি। এগুলো শুধু সান্ত্বনা। বাস্তবতা হলো, রোগীদের যা চিকিৎসা দরকার তার কিছুই দিতে পারছি না আমরা।
গাজার খান ইউনিসের আল নাসের হাসপাতালের মতো একই পরিস্থিতিতে আল আলম হাসপাতালও। রোগীদের পাশাপাশি বাস্তুচ্যুতরাও এসব হাসপাতালের ভেতর আশ্রয় নেয়ায় মানুষে গাদাগাদি অবস্থা সব কক্ষেই। চিকিৎসার অভাবে কাতড়াচ্ছে রোগীরা।
যুদ্ধ শুরুর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ত্রাণ প্রবেশ স্বাভাবিক নয় গাজা উপত্যকায়। দাতব্য সংস্থাগুলোর পাঠানো ট্রাক আটকে দেয়া হচ্ছে মিশর সীমান্তে। এগুলোতে কড়া তল্লাশি চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্র, চিকিৎসা সরঞ্জাম, তাঁবুর মতো খুবই প্রয়োজনীয় সব ত্রাণ সামগ্রী।
মিশরের রেড ক্রিসেন্টের নথি পর্যালোচনা করে করা প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি সামরিক প্রয়োজনে অর্থাৎ হামাস সদস্যরা ব্যবহার করতে পারে এমন যে কোনো পণ্য প্রবেশ করতে দিচ্ছে তারা। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো দাতব্য সংস্থাগুলোর গাফিলতির ওপর দায় চাপিয়েছে তেল আবিব।