গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরাইলি আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এবার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে মার্কিন-ব্রিটিশ শিল্পীরা। ফিলিস্তিনে দীর্ঘ কয়েক দশকের ইসরাইলি দখলদারিত্বের নিন্দা জানিয়ে এ যুদ্ধ বন্ধের আহবান জানিয়েছেন তারা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিনেতা, নাট্যকার এবং গায়কসহ দুই ডজনেরও বেশি শিল্পী এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন।
ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার বিষয়ে বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে, রোববার প্রকাশিত ওই ভিডিওতে প্রতিবাদী শিল্পীরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) দায়ের করা গণহত্যার মামলার বিবরণ উচ্চস্বরে পড়েছেন এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেছেন।
বিশ্বখ্যাত টেলিভিশন সিরিজ গেম অফ থ্রোনসের চার্লস ডান্স, লেনা হেডি, লিয়াম কানিঘাম এবং ক্যারিস ভ্যান হাউটেনসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পী ভিডিওতে ফিলিস্তিনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
ব্রিটিশ অভিনেতা চার্লস ডান্স বলেন, ৭৫ বছরের বেশি সময় ধরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণ করছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ৫৬ বছর ধরে দখলদারিত্ব কায়েম রাখার পাশাপাশি, ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজা অবরোধ করে রেখেছে তেল আবিব।
গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন গুরুতর এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলেও মন্তব্য করেন ডান্স।
এছাড়াও সুসান সারান্ডন, স্টিভ কুগান, টোবিয়াস মেনজিস এবং টুন্ডে অ্যাডেবিম্পের মতো তারকারা কোনো রাগঢাক ছাড়াই ইসরাইলের সমালোচনা করেছেন।
তবে এবারই প্রথম নয়, মার্কিন-ব্রিটিশ ছাড়াও বাংলাদেশি, পাকিস্তানি এবং ভারতীয় শিল্পীদের অনেকেই ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।
এর আগে গেলো নভেম্বরে অবরুদ্ধ গাজায় ইসরাইলের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।
জোলি তার ইনস্টাগ্রামে গাজার একটি ছবি পোস্ট করে বলেন, প্রায় দুই দশক ধরে গাজা একটি উন্মুক্ত কারাগার। এই অঞ্চলটি দ্রুত গণকবরে পরিণত হচ্ছে। নিহতদের ৪০ শতাংশই নিষ্পাপ শিশু। একেকটা পরিবারের সব সদস্যকে হত্যা করা হচ্ছে।
মানবিক অস্ত্রবিরতির আহবান প্রত্যাখ্যান করে ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে নেয়া যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নস্যাৎ করে (ভেটোর মাধ্যমে) বিশ্ব নেতারা এসব অপরাধে ইসরাইলের সহযোগীর ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ করেন জোলি।
গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজায় কেউ আমাদের থামাতে পারবে না: নেতানিয়াহু
আমাজনে মিললো হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন শহর