রীতিমতো বিস্ফোরক তথ্য! ইরানের হামলার বিষয়ে আগে থেকেই জানতো পাকিস্তান। অবিশ্বাস্য হলেও এমন কথাই জানিয়েছে ইরানের একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। তাহলে কি সবই খেলা খেলা, আগে থেকেই সব কিছু সাজানো ছিলো! যদি সেটাই হয়, তাহলে কেন এতো ঢং দেখালো ইরান-পাকিস্তান।
ওই ইরানি সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৬ জানুয়ারি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে আগে থেকেই নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ইরান যে সেই হামলার কথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরবে, সেই কথা জানানো হয়নি ইসলামাবাদকে।
আর সেখান থেকেই শুরু গন্ডগোলের। ইসলামাবাদ নাকি বলেছে, হামলা গোপন রাখার বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি ছিলো না। কিন্তু সেটি যে ফাঁস করে দেবে তা ভাবতে পারেনি দেশটির সরকার। ইসলামাবাদ অভিমান করে বলেছে, ইরান হামলা চালিয়ে তা জনসমক্ষে না-ই আনতে পারতো।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের অভিজাত ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ট টেলিগ্রামের একটি চ্যানলে ১৮ জানুয়ারি লিখেছে, পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলার জন্য দেশটির সরকারের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। পাল্টা হামলাও দু’দেশের চুক্তির মধ্যেই ছিল। কারণ, দুদেশই সীমান্তে জঙ্গি দমনের সংকল্প নিয়েছে।
নিরপেক্ষভাবে তথ্য যাচাই করা না গেলেও, প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আফগানিস্তানে থাকা ইরানি রাষ্ট্রদূত হাসান কাজেমি-কওমি সম্প্রতি পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন। কয়েক জনের ধারণা, ইরানের হামলার বিষয়ে ইসলামাবাদকে অবহিত করতেই পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন হাসান।
যদি প্রতিবেদনের তথ্য সত্য হয়, তাহলে এটা ধরে নেয়া যায়, পাল্টাপাল্টি হামলার বিষয়ে ইরান-পাকিস্তান জানতো। দুই দেশই বিষয়টি গোপন রাখতে চেয়েছিলো। কিন্তু ইরান খবরটি ফলাও করে প্রচার করায়, আতে ঘা লাগে ইসলামাবাদের, তাই পাল্টা হামলাও তারা ফলাও করে প্রচার করে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই মুসলিম প্রধান দেশের মধ্যে নানা বিষয়ে টেনশন থাকলেও, পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা বিরল। চলমান হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের মধ্যে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক অস্থিশীলতার পরিবেশ তৈরি করে। তবে আশার কথা, পাকিস্তান ও ইরান সাম্প্রতিক ঘটনার অবসান ঘটিয়ে শান্তির বার্তা দিয়েছে।
ইরান-পাকিস্তানের হামলা-পাল্টা হামলার আবহে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরে। দুই দেশই একে অপরের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠায়, রাষ্ট্রদূত ফেরত নেয়। আকাশ মহড়াও শুরু করে ইরান। সংঘাত নিয়ে উত্তেজনায় টানটান হয়ে ওঠে মধ্য এশিয়া। তবে দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া সেই উত্তেজনা কমেছে।