খান ইউনিসের হাসপাতালেও ইসরাইলি হামলা

গাজার খান ইউনিস এলাকার একটি হাসপাতালে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। শুক্রবার গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে হামাসের আরও কিছু টানেল ধ্বংসের দাবি করেছে তেলআবিব। এরপরও, ইসরাইল-ফিলিস্তিন দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান এখনো সম্ভব বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গাজায় ইসলাইলের হামলায় লণ্ডভণ্ড গোটা উপত্যকা। শুক্রবার খান ইউনিসের আল আমাল হাসপাতালে বেসামরিক মানুষের ওপর ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। পাশাপাশি উদ্ধারকারী সংস্থার ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। এতে আহত হয়েছে বেশ ক’জন বাস্তুচ্যুত মানুষ।

দাতব্য সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, খান ইউনিসের আল আমাল হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া বেসামরিক মানুষদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। পাশাপাশি উদ্ধারকারী সংস্থার ঘাঁটিতেও হামলা হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা হামলার বিষয়টি যাচাই করছে।

খান ইউনিস শহরের কাছে নাসের হাসপাতালের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি ট্যাংক। গাজায় এখন পর্যন্ত সচল থাকা সবচেয়ে বড় হাসপাতাল এটি। সেখানকার লোকজন জানিয়েছে, তারা পশ্চিম দিক থেকে গোলার শব্দ শুনতে পাচ্ছেন। দক্ষিণ ভাগেও ব্যাপক বন্দুক যুদ্ধ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জাতিসংঘ শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় প্রতি ঘণ্টায় গড়ে দুইজন মা নিহত হয়েছেন। গাজায় চলমান যুদ্ধে মূল ভুক্তভোগী হচ্ছেন নারী ও শিশুরা। এখন পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় প্রায় ১৬ হাজার নারী ও শিশু নিহত হয়েছেন।

গাজার কেন্দ্রীয় এলাকায় হামাসের আরও একটি অস্ত্র ও রকেট তৈরিতে ব্যবহৃত একটি টানলের খোঁজ পেয়ে সেটি ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরাইল। আইডিএফ জানিয়েছে, বেশ কিছু টানেলের মাটির ওপরে ও নিচে অস্ত্রের কারখানা ও সরঞ্জাম ছিল। তবে এর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ দেয়নি বাহিনীটি।

অন্যদিকে, ইসরাইল সেনাদের সাথে লড়াইয়ের নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে হামাসও। মধ্য গাজার পূর্ব দিকে বুরেজ এলাকা থেকে রকেট ছুড়েছে তারা। অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লায় ইসরাইলি বাহিনীর হাতে একজন ফিলিস্তিনি-আমেরিকান কিশোর নিহত হয়েছে। সেনাদের সাথে সংঘর্ষের মধ্যে মারা যান তৌফিক আজ্জাক।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আবারও বলেছেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত নিরসনে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সব কৌশলের বিরোধিতা করেননি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকা অবস্থায়ও মধ্যপ্রাচ্যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এখনো সম্ভব।

এ ছাড়া গাজায় হামাসের হাতে এখনো যারা জিম্মি আছেন, তাদের মুক্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েও টেলিফোনে কথা বলেছেন বাইডেন ও নেতানিয়াহু। গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর আরও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে হামলা চালানো এবং গাজাবাসীর জন্য আরও মানবিক সহায়তা দেয়ার সুযোগের বিষয়েও তাঁদের কথা হয়েছে।

নেতানিয়াহু গাজায় সামরিক লক্ষ্য সম্পর্কে সত্য বলছেন না বলে অভিযুক্ত করেছেন ইসরাইলের যুদ্ধ মন্ত্রীসভার একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এমনকি হামাসের হতাহতের সত্য খবরও উঠে আসছে না।

gaza_attack

এদিকে, অতীতে ইসরাইল ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে বড় অর্থায়ন করেছে বলে দাবি করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল। শুক্রবার, স্পেনের ভায়াদোলিদ বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

জোসেফ বোরেল বলেন, গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনি অথরিটিকে (পিএ) দুর্বল করে দিতে এবং ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ফাটল ধরাতে একসময় হামাসকে ইসরাইল অর্থায়ন করেছে।

তিনি বলেন, হ্যাঁ, ফাতাহর নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি অথরিটিকে দুর্বল করতে হামাসকে অর্থায়ন করেছিল ইসরাইল সরকার।

এদিকে, গাজাবাসীর সমর্থনে বিক্ষোভ করেছেন জর্ডানের মানুষ। পুলিশের উপস্থিতিতে রাজধানী আম্মানে মার্কিন দূতাবাসের কাছে বিক্ষোভকারীরা অবলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।