বেশ কিছুদিন ধরেই খবর খবর আসছিলো, বিদ্রোহী আরাকান আর্মিদের হাতে নাকানি-চুবানি খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে প্রতিবেশী ভারতের মিজোরামে পালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আশ্রয় চাইলেও মিয়ানমার সেনাদের রাখতে রাজি নয় ভারত সরকার। বুঝিয়ে সুঝিয়ে তাদেরকে সেনাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। মিয়ানমার থেকে বিমান পাঠিয়ে তাদের ফেরতে নেয়া শুরু হয়।
মিজোরাম থেকে সেনা ফিরিয়ে আনতে গিয়ে এবার বড় দুর্ঘটনার শিকার হলো মিয়ানমার। মিজোরামের লেংপুই বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে মিয়ানমারের এক সামরিক বিমান। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে বিমানটি নামার সময় রানওয়েতে নির্দিষ্ট জায়গায় থামতে পারেনি। পিছলে এগিয়ে গিয়ে রানওয়ের বাইরে পড়ে যায়। এতে আহত হয় বিমানটিতে থাকা কমপক্ষে আট যাত্রী।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভিসহ ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছেন, ভারত থেকে মিয়ানমারের সেনাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছিল। বিমানটিতে পাইলট-সহ মোট ১৮ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে আট জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে লেংপুই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানেই চিকিৎসাধীন তারা। বিমানের বাকি যাত্রীরা নিরাপদে আছেন।
সম্প্রতি মিয়ানমারে বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণের মুখে পড়ে, জান্তা সেনাবাহিনীর সদস্যরা দলে দলে ভারতে অনুপ্রবেশ করছে। মণিপুর, মিজোরামসহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। এরইমধ্যে আশ্রয় নেয়া সেনাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৬ জনে। এর মধ্যে ১৮৪ জন দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত। তারই অংশ হিসেবে এই সেনাদের সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো মায়ানমার।
পালিয়ে আসা মিয়ানমারের সেনাদের পারভাতে আসাম রাইফেলস ক্যাম্পে নেয়া হয়, পরে তত্ত্বাবধানের জন্য লুংলেইতে স্থানান্তর করা হয়। পরে আইজলের কাছে থাকা লেংপুই বিমানবন্দর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের সিত্তেতে মিয়ানমারের বিমান বাহিনীর উড়ানে করে শুরু হয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।