আরও চার মোসাদ গুপ্তচরকে ফাঁসিতে ঝুলালো ইরান

দেশের সঙ্গে বেঈমানির জন্য ইরানে রয়েছে কঠোর শাস্তি। দোষী প্রমাণ হলে ঝুঁলতে হয়ে ফাঁসির রশিতে। কিছুদিন আগেই ইসরাইলের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করার অপরাধে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিলো তেহরান। এবার একই অভিযোগে আরও চার ইরানিকে ফাঁসি দেয়া হলো। 

এই চার ইরানি নাগরিককে তেহরানের একটি আদালত দোষী সাব্যস্ত করে আগেই মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল।  এবার সেই আদেশ কার্যকর করা হল। সোমবার ভোরে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে চার নাগরিককে। ইরানের বিচারবিভাগ এই মৃত্যুদণ্ডের কথা নিশ্চিত করেছে। 

ইরানি বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ইসফাহান প্রদেশে বোমা হামলার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন চার অভিযুক্ত। এরপর তাঁদের গ্রেফতার করে ইরানের পুলিশ। ইসরাইলের মদতে নাশকতার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল বলে জেরায় অভিযুক্তরা জানান বলে ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে।

এরপর বিচারে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেয় তেহরানের একটি আদালত। সেই নির্দেশ মেনেই পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে বিচারবিভাগের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

চার অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে ইরানি প্রশাসন বলছে, নাশকতার জন্য অভিযুক্তরা ইসরাইলের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছিলেন। তেল আবিবের গোয়েন্দাদের সঙ্গে ভিডিওকলের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন তাঁরা। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলার পরিকল্পনা নিয়েছিলো এই চারজন। 

দেশের সঙ্গে বেঈমানি বা দেশদ্রোহিতার অভিযোগ প্রমাণিত হলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির কথা বলা হয়েছে ইরানের সংবিধানে। মৃত্যুদণ্ডের সাজা উল্লেখ রয়েছে। জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ এবং একজন নারী।

ইরান-ইসরইলের মধ্যে শত্রুতা নতুন কিছু নয়। তেল আবিবকে স্বীকৃতি দেয় না তেহরান। দীর্ঘ দিন ধরে একে অপরের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধে লিপ্ত।  হামাস-ইসরাইল সংঘর্ষেও ফিলিস্তিনিদের পক্ষ নিয়েছে ইরান।

ইসরাইলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ কড়া শাস্তি এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিকবার অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান সরকার। গত বছর ১৬ ডিসেম্বর সিস্তান এবং বালোচিস্তান প্রদেশে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছিলো।