কাপুরুষতার একটা সীমা পরিসীমা থাকে, সেটিও ছাড়িয়ে গেছে ‘শয়তানের দোসর’ বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সদস্য। ডাক্তার-নার্স ও কর্মীদের ছদ্মবেশে অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে ইবনে সিনা হাসপাতালে ঢুকে তিন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেছে দেশটির বিশেষ কমান্ডো সেনারা।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই গোটা বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের নৈতিকতা আবারো প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। দেশটির দাবি, এই তিন ফিলিস্তিন নাগরিক সন্ত্রাসী হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। আর হামাস বলেছে, ফিলিস্তিনের গাজা থেকে জেনিন পর্যন্ত নাগরিকদের বিরুদ্ধে দখলদারিত্বের চলমান অপরাধের ধারাবাহিকতা এটি।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার পশ্চিম তীরের জেনিনে একটি হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহতদের একজন একটি আসন্ন হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত এবং অপর দুজন ইসরাইলে সাম্প্রতিক সহিংসতায় জড়িত ছিল।
অনলাইনে প্রকাশ করা সিসিটিভি ফুটেজে প্রায় ডজনখানেক ছদ্মবেশী সেনাকে অ্যাসল্ট রাইফেল নিয়ে ইবনে সিনা হাসপাতালের একটি করিডোর দিয়ে যেতে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন নারীদের এবং দুজন মেডিক্যাল স্টাফের পোশাক পরা ছিলো। তাৎক্ষণিকভাবে ফুটেজের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম একটি বেসামরিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এই ধরনের অভিযান প্রথম সামনে এসেছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী হাসপাতালগুলোকে ঘিরে রেখেছে এবং কখনও কখনও দূর থেকে চিকিৎসা সুবিধাগুলোতে আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছে।
ইসরাইলি কমান্ডোদের এমন অভিযান জেনিনের সেই হাসপাতালের রোগী ও কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনা অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড জুড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ যোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইসরাইলি সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে যেতে কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তার এটি আরেকটি উদাহরণ।
ইসরাইলের সীমান্ত পুলিশ জানিয়েছে, গোপন ইউনিটের অভিযানে তিন ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী নিহত হয়েছে। তাদের একজনকে হামাস সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। তাদের দাবি, ওই বন্দুকধারী ৭ অক্টোবরের গণহত্যার ঘটনায় অনুপ্রাণিত হয়ে একটি হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, মঙ্গলবারের অভিযানে নিহত দুই ফিলিস্তিনি হামাসের সহযোগী ইসলামিক জিহাদ এবং জেনিন-ভিত্তিক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য। উভয় গোষ্ঠীই সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। তবে হামাস এই ধরনের দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে বলেছে, এটি আরেকটি ইসারাইলি হত্যাকাণ্ড।