এখনো বিশ্বের অন্যতম জনবহুল এবং বড় অথনৈতিক বাজারের দেশ ভারতের বড় সমস্যা ক্ষুধা। কৃষিপণ্য বাণিজ্যে বিশ্বের শীর্ষ সংস্থা বাঙ্গিই বলছে দেশটিতে এখনও অনাহারে থাকে লাখ লাখ মানুষ। খাদ্যের এই, অভাবের বড় কারণ সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা এবং কোল্ড স্টোরেজের অভাব।
জনসংখ্যা বিষয়ক সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন মতে, গেলো বছরে ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতের জনসংখ্যা ১৩৮ দশমিক আট কোটি। এতো বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠির জন্য প্রতিদিনের খাদ্য নিশ্চিত করারই বিশাল একটি চ্যালেঞ্জ দেশটির জন্য। তাই শীর্ষ কৃষিপণ্য উৎপাদক হিসেবেও পরিচিতি এর।
কিন্তু চাল, গম, দুধ আর আখের বৃহত্তম উৎপাদক ভারতে এখনও অনাহারে থাকে লাখ লাখ মানুষ। কৃষিপণ্য বাণিজ্যে বিশ্বের শীর্ষ সংস্থা বাঙ্গির মতে, ভারতে সবচেয়ে বড় সমস্যা ক্ষুধা। সংস্থাটির মতে, দেশটিতে লাখ লাখ ক্ষুধার্ত মানুষ এখনো চাহিদামতো খাবার পাচ্ছেনা। যেটুকু পায় সেটাও পুষ্টিকর নয়।
বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাদ্য উৎপাদক দেশটি চলতি বছরের গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্সে ১২৫টি দেশের মধ্যে ১১১ নম্বরে আছে। তার মানে, ভারতে ক্ষুধা-পরিস্থিতি অনেক খারাপ। সোজা কথায়, খিদের জ্বালা আরও বেড়েছে দেশটিতে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার পাঁচভাগের এক ভাগই ভারতে।
দেশটিতে ১৪০ কোটি মানুষের মধ্যে ১৯ কোটি মানুষ প্রতিদিন অনাহারে থাকে। বাঙ্গির মতে, এই খাদ্যভাবের কারণ হলো সঠিক সরবরাহ ব্যবস্থার অভাব। এর জটিলতা নিয়ে কেউ কখনোই কথা বলে না। এছাড়া এনিয়ে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। ফলে সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে দিনকে দিন।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের মতে, দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ফসল কাটার পরে প্রায় ৪০ শতাংশ ফসল নষ্ট হয় দেশটিতে। কোল্ড স্টোরেজের অভাবে শাক-সবজি এবং ফল আরও দ্রুত নষ্ট হয়। আর গুদামে পচে নষ্ট হয় হাজার হাজার টন খাদ্যশস্য, যা দিয়ে বহু অভুক্তের খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব।
দেশটিতে কম উৎপাদনশীলতার অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে অদক্ষ খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা, অনিয়মিত এবং অস্বাভাবিক আবহাওয়া, কড়া বিধিনিষেধ এবং কৃষকদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করছে সংস্থাটি। এদিকে ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রমমবর্ধমান খাবারের চাহিদাও ভারতের খাদ্য সমস্যাকে আরও জটিল করছে, বলছে বাঙ্গি।
এতো সমস্যার পরও এবার অন্তর্বর্তী বাজেটে সাধারণ কৃষকদের জন্য তেমন ভালো খবর জুটেনি। ভারতের কেন্দ্রীয় বাজেটে কৃষি খাত সবচে কম বরাদ্দ পেয়েছে। যা ১ দশমিক ২৭ লাখ কোটি রুপি মাত্র। যদিও বাজেট বক্তৃতা জুড়ে গেল বছরের কৃষি খাতে সাফল্যের গান গেয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ।