দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের অবসানে অবশেষে মালদ্বীপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবেশি ভারত। ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দেশটি থেকে ভারতীয় প্রায় ৮০ জন সেনাকে সরিয়ে নিয়ে বেসামরিক কর্মীদের নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।
মালদ্বীপ বলেছে, ভারতীয় সৈন্যদের প্রথম দলটি ১০ মার্চ এবং বাকিরা ১০ মের মধ্যে চলে যাবে। নির্বাচিত হবার পর প্রথম চীন সফর শেষে দেশে ফিরে মালদ্বীপকে দেয়া সামরিক সরঞ্জাম এবং ওই অঞ্চলে মানবিক কার্যক্রমে নিয়োজিত ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারে ১৫ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেধে দিয়েছিলেন মুইজ্জু।
ইন্দো-প্যাসেফিক অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারে ভূরাজনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে মালদ্বীপ। তাই দুই বৃহৎ প্রতিবেশী ভারত এবং চীন উভয়ই ভারত মহাসাগরের ছোট্ট এই দেশটিকে নিজেদের বলয়ে রাখতে চায়। কিন্তু এবার মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন চীনঘেঁষা মোহামেদ মুইজ্জু।
‘ভারত খেদাও’ প্রচার দিয়েই নির্বাচনী বৈতরণী পার হন মুইজ্জু। নির্বাচিত হওয়ার পরপরই নিজের প্রতিশ্রুতি পালনে জোর তোড়জোড় শুরু করে দেন। গত বছর নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পরদিনই তিনি ভারতকে তার দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর, গত মাসে প্রথম চীন সফর করেন মুইজ্জু। পরে দেশে ফিরে মালদ্বীপকে দেয়া সামরিক সরঞ্জাম, ওই অঞ্চলে মানবিক কার্যক্রমে সহায়তায় নিয়োজিত ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারে সময় বেঁধে দেন। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
মালদ্বীপ বলেছে, ভারতীয় সেনাদের প্রথম দলটি ১০ মার্চ, বাকিরা ১০ মের মধ্যে চলে যাবে। নয়াদিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে হওয়া চুক্তির বরাত দিয়ে মালদ্বীপের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৈন্য প্রত্যাহারের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ দেশটিতে বর্তমানে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর ৭৭ জন সদস্য রয়েছে। সেনাদের পাশাপাশি ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর ১২ জন মেডিক্যাল কর্মকর্তাও রয়েছেন। দেশটির প্রত্যন্ত দ্বীপের বাসিন্দাদের মানবিক এবং চিকিৎসা সহায়তা দেয়ার জন্য সেনারা দেশটিতে অবস্থান করছেন।