পাকিস্তানে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরে ফলাফল ঘোষণায় অস্বাভাবিক বিলম্ব দেখা দেয়। দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা ফল ঘোষণা বন্ধ থাকার পরে শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত ২৬৬টি আসনের মধ্যে ১৯টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশটির সংবাদমাধ্যমে ডন জানিয়েছে, হাড্ডাহাড্ডি লড়ায়ের মধ্যে এই পর্যন্ত সাতটি আসন জিতেছে নওয়াজ শরিফের পাকিস্তানি মুসলিম লীগ (পিএমএল-এন), ছয় আসনে আছে ইমরান খানের পাকিস্তানি তেহেরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং পাঁচ আসন বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তানি পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং একটিতে স্বতন্ত্র।
নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ৩৩ বছরের জেল সাজা পায়। এর পরেও ইমরান খান ও তার দল পিটিআই এই নির্বাচনী প্রতীক ছাড়াই এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দলটির প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে এই নির্বাচনে অংশ নেন এবং বেশিরভাগ নির্বাচনী এলাকায় তারাই এগিয়ে ছিলো।
ফলাফলের শুরুতে সবচেয়ে বেশি আসনে ইমরান খান এগিয়ে থাকলেও, এখন সামরিক বাহিনীর সমর্থন পাওয়া নওয়াজ শরিফ এক আসনে এগিয়ে আছেন। কিন্তু এই ফলাফল পরিবর্তন হতে বেশি সময় নাও লাগতে পারে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সবচেয়ে কনিষ্ঠ আশাবাদী প্রার্থী বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি ভোটের শুরুতে হাড্ডাহাড্ডি লড়ায় দিলেও এখন পিছিয়ে পরছেন।
ডন আরও বলেন, এবারের কোনো দল এককভাবে সরকার গঠন করতে চাইলে তাদের ১৩৪টি আসনে জিততে হবে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে এবার কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নাও পেতে পারে।
বিবিসির এক প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ভোটের ফলাফল দিতে বিলম্ব হওয়ার কারণে বিতর্কের মুখে পরতে হয়েছে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের।
২৪ কোটি মুসলমানের এই দেশটির ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রীই তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী এই চক্র ভাঙতে পারবে কি না তা ভবিষ্যৎ বলবে।