নির্বাচনে জয়ী হওয়ার দাবি ইমরান খান ও নওয়াজ শরীফের

পাকিস্তানে ১৬তম সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার দাবি করেছেন কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। ইতিমধ্যে ইমরান খান সমর্থিতরা ৯১টি ও নাওয়াজ শরীফের দল জিতেছে ৭১টি আসনে।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তানে এবার কোনো এক দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। মোট ২৬৬টি আসনের মধ্যে ২৫০টিতে ভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। যার মধ্যে নিশ্চিত হয়েছে যে, কোনো দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে না।

ফলাফলের দিক থেকে ইমরান খানের দল পাকিস্তানি তেহেরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে আছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লীগ- নওয়াজ (পিএমএল-এন) এই নির্বাচনের একমাত্র দল, যারা দলীয়ভাবে সবচেয়ে বেশি আসন জিতেছে।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের শেষ তথ্য অনুয়ায়ী, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশ হয়নি। কিন্তু প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে পিটিআই সমর্থিতরা জিতেছে ৯১টি আসনে, পিএমএল-এন ৭১, পাকিস্তানি পিপলস পার্টি (পিপিপি) ৫৩, জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলাম (জেইউআই-এফ) দুইটি ও ৩৩টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতেছে। 

বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নওয়াজ শরীফ তার দলকে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে দাবি করেছেন এবং অন্য প্রার্থীদের তার সঙ্গে যোগ দিয়ে সরকার গঠন করার আহবান জানিয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ৩৩ বছরের জেল সাজা পায়।

কারাগার থেকে এক্সে পোস্ট করে ইমরান খান তার দলের সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং নওয়াজ শরীফকে একজন ‘দুর্বল নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি বলেছেন, পাকিস্তানের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সঙ্কটে এখন তাদের ‘মরিয়াভাবে’ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন।

২৪ কোটি মুসলমানের এই দেশটির ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো প্রধানমন্ত্রীই তার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী এই চক্র ভাঙতে পারবে কি না তা ভবিষ্যৎ বলবে।