ভারতের কৃষক আন্দোলনে পৃথকভাবে আলোচনায় রয়েছে প্রবীণদের উপস্থিতি। এই মানুষগুলো জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করেই নেমেছেন অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে। বয়সের ভারে পড়ছেন নানা ঝামেলায়। তবুও থামতে নারাজ বয়স্ক এই মানুষগুলো।
ভারতে চলমান কৃষক আন্দোলনে যোগ দিতে দূর-দুরান্ত থেকে এসে কৃষকেরা ঘাঁটি বেঁধেছেন পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই তাবুর নিচে থাকছেন তারা। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে শেষ পর্যন্ত করবেন লড়াই- স্পষ্ট বার্তা তাদের।
একজন আন্দোলনকারী বললেন, যতো কষ্টই হোক, এসব কিছু না। শীতের কষ্ট আমাদের গায়ে লাগছে না। কারণ আমরা অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছি। নিজেদের জমি, নিজেদের রুজি রুটি টিকিয়ে রাখার দাবি নিয়ে এখানে দাড়িয়েছি।
ক্যাম্পগুলোতে নেই স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। তাই পড়তে হচ্ছে বিপাকে। নেই পর্যাপ্ত পানিও। এ পরিস্থিতিতে রোগ বালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আছে। তবুও নিজেদের অবস্থানে অনড় প্রবীণ এ ভারতীয়রা।
আরেকজন কৃষক বললেন, যতো সময়ই লাগুক না কেন, সিদ্ধান্ত ছাড়া একচুলও নড়বো না। আমরা ঠিকমতোই খাওয়া দাওয়া করছি। রাস্তায় থাকতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। আর কিছুই না।
ফসলের নূন্যতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপির আইনি গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন দাবিতে গেল এক সপ্তাহ ধরে চলছে ভারতের কৃষকদের এই আন্দোলন।
এক প্রবীণ আন্দোলনকারী বললেন, আমার হাঁটুতে ব্যথা। বসলে উঠতে পারি আর দাঁড়ালে বসতে পারি না। পাবলিক টয়লেট ব্যবহার করতে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়া চারদিন থেকে একই কাপড় পরে আছি। তারপরও আমাদের সন্তানের ভবিষ্যত নিরাপদ না করে এখান থেকে যাবো না।
৭০ বছর বয়সী বলবিন্দর কর বললেন, গেল ৪ দিন ধরে একই জামা পরে আছি। গোসল করা, কাপড় ধোওয়ার মতো পর্যাপ্ত পানি এখানে নেই। টয়লেট ব্যবহারেও অসুবিধা হচ্ছে। হাঁটু ভীষণ ব্যথা। ওঠা-বসা করা আমার জন্য খুব শক্ত কাজ। তবু সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এসেছি।
এর আগে, মোদি সরকারের তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে ২০২০ সালে সিঙ্ঘু, গাজিপুর এবং টিকরি সীমানায় এক বছরেরও বেশি সময় আন্দোলন করেছিল কৃষকেরা।