পাকিস্তানে অচলাবস্থা দেখছেন বিলওয়াল

পাকিস্তানে নতুন সরকারে কারা বসতে চলেছে, তা এখন কোটি ডলারের প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বিতর্কিত নির্বাচন শেষে দেশটির কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে। জোট গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকের পরও কোন সুরাহ হয়নি। এরমধ্যেই নতুন করে পানি ঘোলা করেছেন পাকিস্তান পিপলস পার্টি- পিপিপি প্রধান বিলওয়াল ভুট্টো জারদারি।

দেশটির তরুণ এই রাজনীতিবিদ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, যদি কেউ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে প্রস্তুত না থাকে তাহলে নতুন সরকার গঠনে অচলাবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার ইসলামাবাদে সুপ্রিমকোর্ট চত্বরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলছিলেন। বিলওয়াল ভুট্টো কোন নাম উল্লেখ না করলেও, এটা পরিষ্কার যে তিনি তাদের সম্ভাব্য মিত্র নওয়াজ শরীফকে উদ্দেশ্য করেই কথাগুলো বলার চেষ্টা করেছেন।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের ফল আসার পর থেকেই সরকার গঠন নিয়ে আলোচনা শুরু করেন নওয়াজ শরীফ ও বিলওয়াল ভুট্টো। নওয়াজের দল পিএমএল-এন সরকার গঠনে বিলওয়ালের সমর্থন চায়। প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় দুই দল ভাগাভাগি করে সরকার চালাবে। অর্থাৎ, আড়াই বছর করে সরকারের নেতৃত্ব দেবে দুই দল। পরে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন বিলওয়াল। শুরু হয় ম্যারাথন দর কষাকষি।

সবশেষ সোমবার রাতে পিএমএল-এন-পিপিপি যে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলো, সেখানেও সমাধান কোন পথ দেখা যায়নি। এতে করে বোঝা যাচ্ছে, সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে, দল দুইটি তাদের আলোচনা ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবেন। কারণ, এই সময়ের মধ্যে জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশন শুরু করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নওয়াজ ও বিলওয়াল চাইছেন তাদের মধ্যে আলোচনা চলুক।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী ‘দ্য ডন’ পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নতুন সরকার নিয়ে নওয়াজ শরীফের ফর্মুলার প্রতি বিলওয়াল ভুট্টোর মন গলাতে না পারায় আলোচনা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, জোট নিয়ে বেনজীর পুত্রের এক ধরনের অনীহাও রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারে যোগদানের বিষয়ে সব পক্ষই, নিজস্ব পদসহ নানা ইস্যুতে চাপ বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারও আবার বসবে দলগুলো।

সোমবার পিপিপি নেতা কামার জামান কায়রা জানিয়েছেন, নতুন জোট সরকারের চূড়ান্ত ঘোষণা ২৭ বা ২৮ ফেব্রুয়ারি হতে পারে। তিনি বলেন, জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের অনেক দিন বাকি। এটি ২৯ তারিখের মধ্যে হতে হবে। পিপিপি ও পিএমএল-এন কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে তা ঠিক করছে। এরই মধ্যে চারটি সভা হয়েছে, তবে এসবের মধ্যে মন্ত্রিত্ব নিয়ে কোন আলোচনা এখন হয়নি।

পিপিপি সরকার গঠন ও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে পিএমএল-এনকে সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে এই শর্তে যে, এর বিনিময়ে তারা রাষ্ট্রপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ তারা পাবেন। মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের বাইরে বিলওয়াল সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বার্তা দিয়েছে যে, কোন দলই এককভাবে দেশ চালাতে পারবে না। সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।

তিনি বলেন, সমঝোতার অর্থই হলো দেয়া-নেয়া সমভাবে হবে। আট ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় ব্যবস্থাকে বাঁচাতে সব রাজনৈতিক স্টেকহোল্ডারকে সামনের সময়ে ঐক্যমত গঠন করতে হবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হল সংলাপ এবং সমঝোতা। বিলওয়াল পরিষ্কার করে বলেন, সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া পক্ষের সঙ্গে তাদের কোন আলোচনা হয়নি, তাদের কাছে কেউ আসেনি।

বিলওয়াল ভু্ট্টো বলেন, পিপিপি’র সঙ্গে আলোচনার জন্য এগিয়ে এসেছে পিএমএল-এন। তাই তারা আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে যদি কোন সমঝোতা হয়, তাহলে সেটি পিপিপি’র দেয়া শর্তেই হবে, পিএমএল-এনের না। সরকার গঠনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার পর সংশ্লিষ্টদের গাছাড়া ভাবকে দুষে বিলওয়াল বলেন, সরকার গঠন নিয়ে সমঝোতা বিলম্বিত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, তবে দেশের গণতন্ত্রের ক্ষতি হবে।

বিলওয়াল বলেন, যত দ্রুত সমাধান হবে, সেটি স্থিতিশীলতা ও নতুন সরকারের জন্য ভাল হবে। অন্য কেউ যদি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে চায়, তবে অগ্রগতি হতে পারে। যদি তারা এটি পরিবর্তন করতে প্রস্তুত না হয়, তাহলে একটি বিপজ্জনক অচলাবস্থা দেখতে পাচ্ছি। এমনটা হলে গণতন্ত্র, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উপকারী হবে না বলেও সতর্ক করে দেন বিলওয়াল।