অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় গেলো ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৯৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক ফিলিস্তিনি। এর মধ্যে, গাজার মধ্যাঞ্চলে বৃহস্পতিবার রাতে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছে অন্তত ৪০ জন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই হামলায় ছিলো না কোনো পূর্বসতর্কতা। দফায় দফায় ইসরাইলি বিমান হামলায় কেঁপে ওঠে গাজার মধ্যাঞ্চল। দখলদার বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মাটিতে মিশে যায় একাধিক আবাসিক ভবন।
হামাস পরিচালিত সরকারের মিডিয়া অফিস বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান গাজার দেইর এল-বালাহ শহরের বেশ কয়েকটি আবাসিক বাড়িতে কয়েক দফায় হামলা চালায়। এর ফলে এসব বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই হামলায় হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
এদিকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ওয়াফা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজার মিশর সীমান্তে রাফাহ অঞ্চলের একটি আবাসিক ভবনে বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার বাহিনী। এই হামলায় ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থী শিবিরে একটি গাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় আহত ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় কমপক্ষে আরও ১৫ জন আহত হয়েছে।
এদিকে ইসরাইলের দখল করা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত আইসিজে'তে শুনানি চলছে। সেখানে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছে চীন। দেশটি জানিয়েছে, বিদেশি নিপীড়ন প্রতিরোধে শক্তি প্রয়োগ এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ফিলিস্তিনি জনগণের পূর্ণ অধিকার। শুনানিতে চীনসহ ১২টি দেশের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চীন ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার পুনরুদ্ধারে তাদের ন্যায়সংগত চাওয়াকে অব্যাহতভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। একটি সমন্বিত যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত মীমাংসার আহবান জানায় দেশটি।
এদিকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
এক বিবৃতিতে সামরিক অভিযানের বিষয়ে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরাইলের বেশ কয়েকটি ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে।
তবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা কতজন হতাহত হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল।
এ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ২৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়াও আহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।