গাজা উপত্যতায় ৪০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারীরা। কাতার, যুক্তরাষ্ট্র ও মিসরের সমন্বয়ে চলমান প্যারিস শান্তি আলোচনা থেকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসকে। তবে হামাস এনিয়ে এখনও কোন প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তারা প্রস্তাবটি বিবেচনা করছে।
হাজার হাজার নিরীহ মানুষ হত্যার পরিপেক্ষিতে, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়টি ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের পক্ষ থেকে হামাসের হাতে জিম্মি ইসরাইলি ও বিদেশিদের মুক্তির বিষয়ে চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
এছাড়া রাফাহ এলাকায় ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের লক্ষ্যে অতি দ্রুত একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকরের চেষ্টা করছে মধ্যস্থতাকারীরা। সম্প্রতি ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনায় এ বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা। প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে প্যারিসে আনাগোনা করছে বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা।
নতুন এই প্রস্তাব অনুসারে, গাজায় ৪০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং এই সময়ে হামাসের হাতে জিম্মি ও ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনি বন্দীদের বিনিময় করা হবে। নতুন প্রস্তাবে, হামাসের হাতে আটক একজন ইসরাইলি জিম্মির বিনিময়ে ১০ জন করে ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয়া হতে পারে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যস্ততাকারীরা বলছেন, এই ৪০ দিনে ইসরাইল বা হামাসের পক্ষ থেকে কোনো ধরনে সামরিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে না। হামাসের হাতে থাকা ১৯ বছরের কম ও ৫০ বছরের বেশি বয়সি এবং অসুস্থ ৪০ জিম্মিকে মুক্তি দেয়া হবে। বিপরীতে ইসরাইল মুক্তি দেবে ৪০০ ফিলিস্তিনিকে।
একই সাথে ইসরাইল এই ৪০০ জনকে আর কখনোই গ্রেপ্তার করবে না বলে নিশ্চয়তা দেবে। প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির ৪০ দিনের মধ্যে গাজার হাসপাতাল ও বেকারিগুলো মেরামত করে পুনরায় চালু করা হবে। প্রতিদিন অঞ্চলটিতে ৫০০ ট্রাক করে ত্রাণসামগ্রী প্রবেশ করবে।
প্রতিটি বাস্তুহারা পরিবারকে এক বা একাধিক তাঁবু ও ক্যারাভান সরবরাহ করা হবে। গাজা ও পশ্চিম তীরে এমন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও অঞ্চল দুটিতে ইসরায়েলি হামলা ও অভিযান থেমে নেই। আন্তর্জাতিক সব আহবান উপেক্ষা করে ইসরায়েলি সেনারা ভূখণ্ড দুটিতে মারণ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে এবং হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতি খুব কাছাকাছি। বাইডেন বলেন, আমি আশা করি, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকের মধ্যেই এটি কার্যকর হবে।
বাইডেন বলেন, তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান তাঁকে বলেছেন, আমরা (যুদ্ধবিরতির) খুবই কাছাকাছি। তিনি আরও বলেন, আমার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আমাকে বলেছেন যে, আমরাই কাছাকাছি, খুবই কাছাকাছি, তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এ সময় আগামী সোমবার নাগাদ গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়ে যাবে আশা প্রকাশ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, আমি আশা করি, আগামী সোমবারের মধ্যেই আমরা যুদ্ধবিরতি দেখতে পাব।