ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো ইয়েমেন সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠি হুতি এখন ইসরাইলের দোসর মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমাদের কাছে শুধু আতঙ্কের নামই নয়, বিশ্বের সব স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য সাহস আর অনুপ্রেরণার নাম। ট্রিলিয়ন ডলারের সমর শক্তির বিরুদ্ধে যেভাবে মাথা উঁচু করে লড়াই করছে হুতিরা, তাতে অবাক বিষ্ময়ে তাকিয়ে রয় গোটা বিশ্ব। নিজেদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি তারা রক্ষা করছে বীরের মতো।
লোহিত সাগরে ৫৪ জাহাজে হামলার পর এবার ইসরাইল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘সামরিক বিস্ময়’ প্রদর্শনের হুশিয়ারি দিলো হুতিরা। ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি এক টেলিভিশন ভাষণে হুশিয়ারী দিয়ে বলেছেন, আমাদের সামরিক অভিযান চলবে এবং আমাদের কাছে এমন কিছু বিস্ময় রয়েছে, যা শত্রুরা কল্পনাও করেনি। হুতি যা বলে, সেটি শুধু মুখেই নয়, করেও দেখাও।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের ভয়াবহ গণহত্যার প্রতিবাদে গত নভেম্বর থেকে হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত ও কৃষ্ণসাগরে ইসরাইল এবং পশ্চিমাদের মালিকানাধীন জাহাজে হামলা শুরু করে। এরপর গেলো জানুয়ারিতে মাসে ইঙ্গ-মার্কিন বাহিনী হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই, মার্কিন ও ব্রিটিশ জাহাজগুলোতেও হামলা শুরু করেছে সানা। এরই সবশেষ ঘটনা একটি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া।
আল-হুথি বলেন, গাজাবাসীর প্রতি সংহতি জানিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৪টি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, গত বছরের মধ্য নভেম্বর থেকে ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনও জাহাজ বাব আল-মান্দাব প্রণালি অতিক্রম করতে পারেনি বললেই চলে। লোহিত সাগরে ইসরাইলগামী জাহাজগুলোতে ৩৮৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন হুতি নেতা।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন ও ব্রিটিশ বাহিনী ইয়েমেনে বিমান হামলা চালানোর পর তাদের কাছ থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষনীয় এবং ‘বেদনাদায়ক জবাব’ পেয়েছে। মার্কিন-ব্রিটিশ হামলা হুতির সামরিক সক্ষমতার কোনও ক্ষতি করতে পারেনি। এর ফলে বরং তাদের হামলা করার আকাঙ্ক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসী লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় হতাশ আমেরিকা। এবং হুতিদের শক্তি দেখে বিস্মিত হচ্ছে।
ইয়েমেনের এই হুতি নেতা আরও হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, লোহিত সাগরে শুধুমাত্র সেই সব জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, যেগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে দখলদার বাহিনীর পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নিলেও লোহিত সাগরে হামলা বন্ধ হবে। তার আগ পর্যন্ত মুসলিম ঐক্যের আগ্নিবলয়ের মুখোমুখি হতে হবে পশ্চিমাদের।
হুতিদের ভাষ্য, গাজায় ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞের শোধ নিচ্ছে তারা। এতে বিশ্বের বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো তাদের অতি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথে সরবরাহ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। লোহিত সাগরে হুতিদের হামলা ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের উত্তাপ আরও বড় অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু কিছুতেই হুতিদের হামলা ঠেকানোর উপায় খুঁজে বের করতে পারছে না পশ্চিমারা।
লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হুতিদের হামলা, ইসরাইল ও এর দোসরদের বেশ সমস্যায় ফেলে দিচ্ছে। সাগরের এই অংশের অন্যরকম গুরুত্ব রয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। ইয়েমেন উপকূলের বাব-এল-মান্দেব থেকে মিশরের উত্তরাঞ্চলে সুয়েজ খাল পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাগর। বিশ্ব বাণিজ্যের ১২ শতাংশ সরবরাহ ও ৩০ শতাংশ কনটেইনার এ পথ দিয়ে যায়।