ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সমর্থনে আর ইসারাইলি হায়েনাদের প্রতিরোধে প্রতিদিনই যেন দুর্দমনীয় হয়ে উঠছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী বাহিনী- হুতি। লোহিত সাগরে একচ্ছত্র মাস্তানিতে এখন রীতিমতো ঘুর হারাম হয়ে গেছে পশ্চিমাদের। কোনভাবেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্র বাণিজ্য পথে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছে না ইসরাইলের দোসর হিসাবে চিহ্নিত কোন দেশের জাহাজ।
হুতিদের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও বসে নেই। তারা বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। দেশ দুটি হুতি বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তালিকায় নাম উঠিয়েছে। এতে বরং বয়েই গেছে হুতিদের। উল্টো মিসাইল হামলা চালিয়ে ব্রিটিশ কার্গো রুবিমারকে ডুবিয়ে এই গোষ্ঠিটি প্রমাণ করেছে, লোহিত সাগরে আর যাই হোক, অন্য কারো খবরদারি চলবে না।
এই ঘটনার পরপরই ইসরাইল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘সামরিক বিস্ময়’ প্রদর্শনের হুশিয়ারি দেয় হুতিরা। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির নেতা আব্দুল মালিক আল-হুতি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, আমাদের সামরিক অভিযান চলবে এবং আমাদের কাছে এমন কিছু বিস্ময় রয়েছে, যা শত্রুরা কল্পনাও করেনি। হুতি যা বলে, সেটি শুধু মুখেই নয়, করেও দেখাও। সত্যি সত্যিই সেই কাজটি করেও দেখালো হুতিরা।
লোহিত সাগরে, একটি নয়, দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে হুতি যোদ্ধারা। বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারিয়া মঙ্গলবার দাবি করেন, মার্কিন নৌবাহিনীর দুইটি ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি মিসাইল ও ড্রোন হামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে কয়েকটি লক্ষ্যে আঘাত করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দেননি তিনি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইয়েমেনের জলসীমায় কোনো জাহাজ প্রবেশের আগে, দেশটির হুতি নিয়ন্ত্রিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে, হুতি টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মিসফার আল–নুমাইর এমন নির্দেশনা পরই এমন হামলা হলো। এই হামলার একদিন পর অবশ্য আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, হুতিদের ছোঁড়া ব্যালাস্টিক মিসাইল ও বোমাবহনকারী ড্রোনকে সফলতার সঙ্গে আকাশেই ধ্বংস করতে পরেছেন তারা।
এদিকে, মার্কিন থিং ট্যাঙ্ক ‘দ্য হিল’ জানিয়েছে, হুথিদের সাথে দুই মাসেরও বেশি প্রত্যক্ষ লড়াইয়ের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রচুর ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। হুতিদের সস্তা ড্রোন ও মিসাইল মোকাবেলার পাশাপাশি হুতিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও প্রতিরক্ষামূলক হামলা চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় রকম অর্থ প্রতিদিন গচ্চা দিতে হতে। দুই হাজার ডলারের মিসাইল ঠেকাতে দুই মিলিয়ন ডলার নষ্ট হচ্ছে।
বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য উপহাস হিসাবে উল্লেখ করে ‘দ্য হিল’ আরও বলেছে, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইটি দিনকে দিন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে, কারণ এই বিদ্রোহী গোষ্ঠিটির থামার কোন লক্ষ্যণ নেই। উল্টো তারা আমেরিকাকে দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ব বাণিজ্যকে শিকেয় তুলতে পারে। বলা বাহুল্য, গেল নভেম্বর থেকে লোহিত সাগরে ৫৪টি জাহাজে হামলা চালিয়েছে হুতি যোদ্ধারা।