মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তখনই ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ওয়াশিংটনকে এক প্রকার ‘শর্তযুক্ত শান্তির’ প্রস্তাব দিয়েছে। হুতিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর হামলা বন্ধ রাখবে, ততক্ষণ তারাও যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। তবে এই ‘শান্তি’ যে কতটুকু ভঙ্গুর, তা হুতি নেতাদের কথাতেই স্পষ্ট।
গত মাসে ইসরাইলে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়ে হুথিরা জানিয়ে দিয়েছিল, তারা ইরানের পাশে আছে। তবে লোহিত সাগরে মার্কিন সম্পদ বা বাণিজ্যিক জাহাজে এখনো বড় কোনো হামলা চালায়নি তারা। হুতি নেতা মোহাম্মদ আলী আল-হুতি সিএনএন-এর মাধ্যমে জানিয়েছেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন না চালালে কোনো মুসলিম দেশকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই।

হুতিদের মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগরকে কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সামরিক কাজে ব্যবহার হতে না দেওয়া। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণকারী এই গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তাদের কাছে সমুদ্রপথ ‘রক্ষা’ করার মতো যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে, তখন হুতিরা তাদের তুরুপের তাস হিসেবে ‘বাব আল-মানদাব’ প্রণালী বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এই কৌশলগত পথটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক রুট। হুতিরা জানিয়েছে, যদি যুদ্ধ আরও বড় হয়, তবে এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া একটি ‘কার্যকর বিকল্প’ হিসেবে তাদের টেবিলে রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে তারা ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালিয়ে বড় বড় শিপিং কোম্পানিগুলোকে এই রুট ছাড়তে বাধ্য করেছিল।
হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা এড়াতে সৌদি আরব বর্তমানে তাদের লোহিত সাগরীয় বন্দরগুলো ব্যবহার করছে। এই বন্দরগুলো হুথিদের নিশানায় আসবে কি না- এমন প্রশ্নে আল-হুতি বলেন, সৌদি যতক্ষণ এই সংঘাত থেকে দূরে থাকবে এবং আমেরিকা বা ইসরাইলের সাথে হাত মেলাবে না, ততক্ষণ তাদের ওপর হামলার পরিকল্পনা আমাদের নেই। অর্থাৎ, রিয়াদকে এক প্রকার নিরপেক্ষ থাকার প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রাখল সানা।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, ইরান যখন উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, তখন হুতিরা দাবি করেছে, ইসরাইলে হামলার সিদ্ধান্তটি ছিল তাদের একান্তই নিজস্ব। কারোর অনুরোধ বা নির্দেশে তারা এটি করেনি। তবে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তেহরানের সাথে তাদের মিত্রতা এই যুদ্ধের সমীকরণকে যে কোনো সময় বদলে দিতে পারে।
আপাতত লোহিত সাগরের শান্ত নীল জলরাশির নিচে হুতিরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মুখ কোন দিকে ঘুরিয়ে রেখেছে, তা নিয়ে মার্কিন নৌবাহিনী এবং বিশ্ব বাণিজ্যের হর্তাকর্তারা গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। যুদ্ধবিরতির এই প্রস্তাব কি সত্যিই শান্তি আনবে, নাকি এটি আরও বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস? সময় তার উত্তর দেবে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
