অপুষ্টিতে মরছে গাজার শিশুরা, নিহত ৩১ হাজার ছুঁই ছুঁই

খাবার আর পানির অভাবে গাজা উপত্যকায় রোজই অপুষ্টিতে মারা যাচ্ছে শিশুরা। এরমধ্যেই চলছে ইসরাইলের বর্বর গণহত্যা। গেলো ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে দখলদার ইসরাইল। এ নিয়ে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন মোট ৩০ হাজার ৯৬০ জন ফিলিস্তিনি। আহতের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। 

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে শনিবার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডিল ইস্ট মনিটর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।  

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, গাজা ভূখণ্ডে অভিযান জোরদার করেছে ইসরাইল। শুক্রবার আল নুসিরাত শরণার্থী শিবিরের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। 

গাজার উত্তরাঞ্চলে অপুষ্টির শিকার হয়ে এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এই নিয়ে এখন পর্যন্ত গাজায় অপুষ্টি ও পানিশূন্যতায় মোট ২৫ জন নিহত হয়েছে। 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কতিপয় ইউরোপীয় দেশের একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, গাজায় সমুদ্রপথে সরাসরি ত্রাণ পাঠানোর প্রক্রিয়াটি হবে জটিল। তবে এ দেশগুলো দ্রুত ত্রাণ পাঠানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এছাড়া গাজায় স্থলপথে ত্রাণ পাঠানোর লক্ষ্যে ইসরাইলের সাথে কাজ করবে তারা।

সবশেষ বিমানের মাধ্যমে ত্রাণ পাঠাতে গিয়ে ত্রাণের নিচে চাপা পড়ে নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এসব কারণে গাজায় ত্রাণ পাঠানোর বিকল্প পথ বের করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

এদিকে ফিলিস্তিনে জাতিসংঘ পরিচালিত শরণার্থী সংস্থাকে (ইউএনআরডব্লিউএ) আবারও তহবিল দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সুইডেন ও কানাডা। 

অন্যদিকে হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়াহ রমজানের আগে গাজায় চলমান যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধের আহবান জানিয়ে ইসরাইলের মিত্র দেশগুলোর সাথে আলোচনা করছে।

এর আগে গেলো অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৩১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ।