রমজানে জেরুসালেমে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

ইসরাইল আর হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি না হওয়ায় রমজান মাসে জেরুসালেমে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ মাসে আল আকসা মসজিদে যাতায়াত ও পরিদর্শনের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান বিবেচনা করা হয় আল আকসাকে। এই জায়গাটিকে ইহুদীরাও তাদের পবিত্রতম স্থান বলে মনে করে, যা তাদের কাছে টেম্পল মাউন্ট নামে পরিচিত। কখনো কখনো এই জায়গাটি ইসরায়েল ফিলিস্তিনি সংঘর্ষের ফ্ল্যাশ পয়েন্ট হয়েও দাঁড়ায়।

রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেলে আগামী ১১ বা ১২ মার্চ জেরুসালেমে পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে। তবে ইসরাইল দাবি করছে, হামাস রমজান মাসে এই অঞ্চলটি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। যা কয়েকদিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে।

রোজার শুরুতে ৪০ দিনের একটা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেছে।

palastine

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, লোকেরা নিয়মিত রমজানের ঐতিহ্য উদযাপন এবং উপভোগ করতে পছন্দ করে। কিন্তু এ বছর তার আর কিছুই হবে না। এই পবিত্র মাসে আমরা কোনো মৃত্যু চাইনা। আমরা শুধু শান্তি চাই।

এদিকে আল আকসা মসজিদ ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রেখেছে ইসরাইলি পুলিশ। মসজিদ কমপ্লেক্সের প্রতিটি গেটে কন্ট্রোল অ্যাক্সেস চালু করা হয়েছে।

১৯৬৭ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল এই অংশসহ পূর্ব জেরুজালেম দখল করে। তাই এই স্থানটি ফিলিস্তিনিদের কাছে সংগ্রামের একটি প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এখানে প্রায়ই ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার বেশিরভাগই হয় রমজান মাসেই।

palastain2

ইসরাইলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গেভির আল আকসা মসজিদে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এটি করা হবে হামাসের বিজয় উদযাপন বন্ধ ও ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির জন্য।

তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেছেন, রমজানের প্রথম সপ্তাহে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হবে। তবে তারা প্রতি সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করবে।

তবে এই রমজানে আল আকসায় কতো সংখ্যক মুসলমানদের প্রবেশের অনুমতি মিলবে তা এখনও স্পষ্ট করেনি ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।