এই সেই রমজান মাস। যে মাসে বদরের যুদ্ধে বীরত্বে সাথে যুদ্ধ করে অত্যাচারী কুরাইশদের বিরুদ্ধে জয় ছিনিয়ে আনে মুসলিমরা। হযরত মুহাম্মদের নেতৃত্বে সংগঠিত এ যুদ্ধে হাজারো জালেমদের সাথে যুদ্ধ করেন মাত্র ৩১৩ জন আল-আমিন। সাথে ছিলো মাত্র তিনটি ঘোড়া, ৭০টি উট, ছয়টি বর্ম ও আটটি তলোয়ার। অন্যদিকে জালিমদের হাতে ছিলো সাতশ’ উট, একশ’ ঘোড়া এবং অজস্র ঢাল-তলোয়ার!
কিন্তু মুসলমানদের কাছে যা ছিলো তা মোকাবেলা করার শক্তি ওইসব হাজারো জালিমদের কাছে ছিলো না। আর সেই পরাক্রমশালী অস্ত্র হলো ইমান। সেই ইমানের বলের জালিমরা নাস্তানাবুদ হয়ে মাটিতে মিশে যায়। পতপত করে ওড়ে ইসলামের বিজয় পতাকা। ইসলামের এই প্রথম সামরিক যুদ্ধে হজরত মুহাম্মদের নেতৃত্বে মুসলমান বাহিনী বিজয়ী হয়।
বদর যুদ্ধের প্রায় ১৪শ’ বছর পর আবারও এক বদর যুদ্ধ কি দেখতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী? স্থান আবারো সেই আরব-ই। এ সপ্তাহে গাজা দখলের ঘোষণা দিয়েও পাঁচ মাসে তা করে উঠতে পারেনি হানাদার ইসরাইল। হামাসের সাথে না পেরে নিরীহ গাজাবাসীকে হত্যা করে মুখ রক্ষা করছে ইসরাইল। এবার সেটাও আর হতে দিবে না বীরেরা! চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি! টার্গেট রহমতের মাস-রমজান!
হিজবুল্লাহ-হুতি-হামাস এই তিনের হালকা আক্রমণেই কুলকিনারা পাচ্ছে না ইসরাইল- এবার দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার ইয়েমেনি অস্ত্র হাতে ট্রেনিং নিচ্ছে, শপথ নিচ্ছে সেই হাজার বছরের প্রাচীন শত্রুদের ঘায়েল করার। এবার চূড়ান্ত আঘাত! দু’দিন পরেই পবিত্র রমজান শুরু। এখনই এই ভিডিও প্রকাশ করে হুতিরা আসলে বুঝিয়ে দিচ্ছে- এ মাস বদর যুদ্ধের, এ মাস তাবুক যুদ্ধের, এ মাস মক্কা বিজয়ের।
এ মাসে মুসলমানরা হারতে শেখেনি। আমেরিকা-ইসরাইলের পতাকা পায়ে ঠেলে, আগুনে ছাই বানিয়ে- হুতিরা বুঝিয়ে দিচ্ছে- সাবধান হও! আমরা আসছি! অর্থ্যাৎ টার্গেট কি সেই ১৭ রমজান? আবার সেই বদর যুদ্ধ, মক্কা বিজয়ের আদলে জেরুজালেম? সেটা জানতে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হলেও- এটা নিশ্চিত রোজায় যেখানে বাঘ হয়ে যায় নিরীহ মুসলিমও -রমজানে হবে তারা আরও শক্তিশালী।
সে শক্তিতে পতন হবে ইসরাইল-আমেরিকার। পবিত্র কোরআনে বদর যুদ্ধের এ দিনটিকে হক-বাতিলের পার্থক্যকারী দিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ- হুতি বুঝিয়ে দিবে এবারেও যুদ্ধটাও হক ও বাতিলের মধ্যে! যে যুদ্ধে জিতে যায় ন্যায়। যুদ্ধে ভয় পায়না হামাস-হুতি-হিজবুল্লাহ!
জালিমদের অত্যাধুনিক অস্ত্রের সামনে খালি হাতেই বুক চেতিয়ে যেতে পারে তারা। আর তাতেই না পালিয়ে উপায় থাকে না ইসরাইলের। এবার হুথিরা নিচ্ছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। এবার তীর ধনুকের জায়গায় হাতে অত্যাধুনিক সব অস্ত্র। আর আসমান থেকে আসবে তারা, যারা এসেছিলো সেই বদর যুদ্ধে! পালাবে কোথায় ইসরাইল গং!
মাঝেমধ্যে পশ্চিমা জাহাজে মৃদু হামলা চালায় হুথি -তাতেই কাঁপাকাপি অবস্থা হয় তাদের, থমকে যায় বিশ্ব বাণিজ্য! এবার যেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামছে আল আমিনরা- তাতে জালিমদের চূড়ান্ত পতন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।