বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট। হিমালয় পর্বতমালার এই শৃঙ্গটি জয়ের লড়াই চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। মানব জাতির ইতিহাসে এভারেস্টের চূড়ায় প্রথম পা রাখেন এডমান্ড হিলারি এবং শেরপা তেনজিং নোরগে। সেটিও ১৯৫৩ সালে কথা। এরপর হাজার হাজার পর্বতারোহী এই শৃঙ্গ জয়ের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
১৯৯০ দশকের দিকে দল বেঁধে পর্বতারোহীরা এভারেস্ট জয় শুরু করেন৷ সেই থেকে, প্রতি বছরই শত শত পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় উঠছেন৷ রেকর্ড বলছে, এখন পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি সফলভাবে এভারেস্ট চূড়া জয় করেছে মানুষ। কিন্তু মানুষের এমন অদম্য ইচ্ছার কারণে এখন বিপন্ন এভারেস্টের পরিবেশ।
পর্বতারোহীদের কারণে এভারেস্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোয় ভিড় জমছে। এ কারণে পর্বতের বুকে মৃত্যু বেড়ে যাবার ঘটনা যেমন বেড়ে গেছে তেমনি, অতিরিক্তি ভিড়ের কারণে পরিবেশও দূষিত হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনাসহ নানাবিধ বর্জ্যের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এভারেস্টের বিভিন্ন বেস ক্যাম্পগুলো।
এনিয়ে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা আর উদ্বেগের ফলে নড়েচড়ে বসেছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। এবার পর্বতারোহীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে নেপালের পাশাং লামু পৌরসভা। বলার অপেক্ষা রাখে না, এখান থেকেই বেশিরভাগ পর্বতারোহী এভারেস্টে ওঠার চেষ্টা করেন।
এভারেস্টে যে পর্বতারোহীরা ওঠেন তারা এতোদিন মলত্যাগ করতেন বরফের ওপর। শৃঙ্গের খুব কাছে না পৌঁছনো পর্যন্ত বরফে গর্ত করে করে তাতে মলথ্যাগ করে তা বরফ চাপা দিয়ে দিতেন তারা। আর উপরের দিকে যেখানে ক্রমশ পুরু বরফ কমে আসে সেখানে পাথরের ওপরই মলত্যাগ করতেন পর্বতারোহীরা।
আর অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে দ্রুত নষ্টও হতো না এসব মল। পরে যেসব পর্বতারোহী সেখান দিয়ে যেতেন তাদের অনেকে ওটা দেখে এবং দুর্গন্ধে অসুস্থ বোধ করতেন। এভাবে এভারেস্টে আর মলত্যাগ করা যাবে না বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। তাহলে কি করতে হবে?
পাশাং লামু পৌরসভা জানিয়ে দিয়েছে, পর্বতারোহীদের এবার থেকে এভারেস্ট শৃঙ্গে ওঠার সময় মলত্যাগের জন্য বিশেষ ব্যাগ কিনে নিতে হবে। এগুলো বিশেষভাবে তৈরি। মলত্যাগ করে এই ব্যাগ সঙ্গে রাখতে হবে। ব্যাগে বিশেষ উপকরণ দেয়া থাকবে, যাতে মল দ্রুত কঠিন হয়ে যায়। তার দুর্গন্ধও নষ্ট হয়ে যায়।
ওই ব্যাগ সঙ্গে করেই এভারেস্টে ওঠানামা করতে হবে সবাইকে। এভারেস্ট থেকে নেমে আসার পর সেই ব্যাগ যথাযথ নিয়ম মেনে নষ্ট করে ফেলা হবে। ফলে এই মৌসুমে এভারেস্টে যেতে হলে পর্বতারোহী ও শেরপারা এই ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে যেতে বাধ্য থাকবেন। এভারেস্টে তাঁরা আর মলত্যাগ করতে পারবেননা।
শুধু তাই নয়, পানির বোতল থেকে শুরু করে খাবারের প্যাকেট কোন কিছুই আর এভারেস্টের গায়ে ফেলে দিয়ে আসা যাবে না। সাথে রাখতে হবে। আবার নেমে আসার সময় বিভিন্ন পয়েন্টে রেখে দেয়া সেসব ময়লার ব্যাগ সাথে করে নামতে হবে। এতে এভারেস্টের পরিবেশ অক্ষুণ্ন থাকবে, দূষণও ছড়াবে না।