হুতিদের ছাপিয়ে এখন আলোচনায় সোমালিয়ার জলদস্যুরা। বেশ কিছু দিন চুপচুপ থাকার পর বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ছিনতাই করে আবারও শিরোনামে আফ্রিকা মহাদেশের ভয়ঙ্কর ও দুর্ধর্ষ এই জলদস্যু গোষ্ঠীটি, যাদের পেছনে সোমালি সরকারের সহযোগিতা রয়েছে বলে অভিযোগও আছে।
মোজাম্বিক থেকে ৫০ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাওয়ার পথে গেল মঙ্গলবার বেলা দেড়টায় জলদস্যুদের কবলে পড়ে এমভি আবদুল্লাহ। এ সময় জাহাজটির অবস্থান ছিলো সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল পূর্বে ভারত মহাসাগরে। এখন জাহাজটি সোমালিয়ার উপকূলে নোঙর করা আছে।
এ খবরের রেশ কাটতে না কাটতেই জানা গেলো, ভারতীয় নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। ছিনতাই করা একটি জাহাজে অভিযান চালাতে গেলে সেখান থেকে তাদের গুলি ছোড়া হয়। শুক্রবারের এই ঘটনার একটি ভিডিও এখন ভাইরাল হয়ে সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে।

আট সেকেন্ডের ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, এক জলদস্যু হেঁটে ডেকে এসে ছিনতাই করা জাহাজটির উপরে উড়তে থাকা একটি হেলিকপ্টারের দিকে রাইফেল তাক করে গুলি ছুড়ছে, দুইবার গুলি ছোড়ে সে। ভারতীয় নৌবাহিনী ওই জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ করতে ও জিম্মিদের ছেড়ে দিতে বলেছে।
গত বছর ‘ইক্স-এমভি রুয়েন’ নামের মাল্টার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ ছিনতাই করে সোমালিয়ার জলদস্যুরা। সেই জাহাজ নিয়েই সমুদ্রপথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। অপহৃত সেই জাহাজ ব্যবহার করেই সমুদ্রপথে অন্য পণ্যবাহী জাহাজগুলোকেও অপহরণ করছে।
জলদস্যুদের সেই জাহাজটিকে ধরার চেষ্টা করতেই ভারতীয় নৌবাহিনীর হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় জলদস্যুরা। নৌবাহিনী সূত্রে খবর, ২০২৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর এক্স-এমভি রুয়েন নামে মাল্টার পণ্যবাহী জাহাজটিকে সোমালিয়ার উপকূলের কাছ থেকে অপহরণ করেছিল জলদস্যুরা।

সেই জাহাজটিকে কাজে লাগিয়েই ওই সমুদ্রপথে বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজকে অপহরণের চেষ্টা করে তারা। শুক্রবারও ওই জাহাজটি নিয়েই বাংলাদেশের একটি পণ্যবাহী জাহাজকে অপহরণের চেষ্টা করে সোমালি জলদস্যুরা। কিন্তু ওই জাহাজ থেকে বার্তা পেয়েই উদ্ধার কাজে যায় ভারতীয় নৌবাহিনী।
ধারণা করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ ছিনতাইয়ের কাজেও এই জাহাজটি ব্যবহার করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, বাংলাদেশের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় জলদস্যুরা সম্ভবত তাদের ছিনতাই করা জাহাজ রুয়েনকে ব্যবহার করেছে।
ভারতীয় নৌবাহিনী জানিয়েছে, আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নিয়ে সোমালি জলদস্যুদের আত্মসমর্পণের জন্য চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছের তারা। একটি যুদ্ধজাহাজ দিয়ে ছিনতাই করা জাহাজটি আটকাতে সক্ষম হয় নৌসেনারা। এর পরই একটি হেলিকপ্টারে করে রুয়েনের কাছে গেলেই সেটি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে সোমালি জলদস্যুরা।
গাজায় নিরানন্দ ইফতার, বেঁচে থাকাই দায় 