কাতারে আবারও আলোচনা শুরু, নতুন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা

কাতারের রাজধানী দোহায় আবারও শুরু হয়েছে গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিশরের শীর্ষ কূটনীতিকসহ হামাস ও ইসরাইলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা এতে অংশ নিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রোববার আলোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আসতে পারে নতুন ঘোষণা।  

এদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং রাফাহে অভিযানের পরিকল্পনা স্থগিত করতে ইসরাইলের ওপর চাপ বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  

কাতারে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা সম্পর্কে অবগত এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির শর্তে হামাস নমনীয়তা দেখিয়েছে। ইসরাইলই এই অচলাবস্থা বজায় রেখেছে, কারণ তারা গাজার যুদ্ধ শেষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে চায় না। 

এর আগে বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আমরা এমন একটি প্রস্তাব জমা দিয়েছি যাতে জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিতের জন্য গাজায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা আশা করি অন্যান্য দেশ এতে সমর্থন দেবে।

ব্লিঙ্কেন বলেন, আমরা অবশ্যই ইসরাইলের পাশে আছি এবং তাদের আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতিও আমরা সম্মান জানাই। কিন্তু একইসঙ্গে, যেসব বেসামরিক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, যারা চরম দুর্দশায় আছেন—তাদের ওপরও আমাদের নজর দিতে হবে। এটাও গুরুত্বপূর্ণ। তাদেরকে প্রাধান্য দিতে হবে। বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং তাদের জন্য মানবিক সহায়তা জোগাড় করতে হবে।

বুধবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান ও দেশটির নেতা মোহাম্মাদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্লিঙ্কেন। এরপর তিনি মিশর ও ইসরাইলেও সফর করবেন। 

গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় গণহত্যা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৩২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। 

এর পরপরই গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। শুধু আকাশপথে নির্বিচার বোমা হামলা নয়, গাজায় স্থল অভিযানও চালিয়ে আসছে দখলদার বাহিনী।

গাজায় চলমান এই গণহত্যায় ইসরাইলকে সরাসরি অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো পশ্চিমা দেশগুলো। এমনকি জাতিসংঘে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো।   

অন্যদিকে বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, ইরানের মতো দেশগুলো এ গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।