দর্শন বাবু পেশায় একজন প্রকৌশলী হলেও, নেশায় একটি ক্রিকেট বাজিকর। ক্রিকেট নিয়ে বাজি ধরায় আসক্ত এই ভারতীয় ২০২১ সাল থেকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচগুলোতে বড় বাজি রেখে চলেছেন। তিনি প্রায়শই বাজি হারার পরে টাকা ধার করেন। সেই ধারই কাল হলো তার জন্য। পাওনাদারদের কঠিন চাপের কাছে ক্লান্ত হয়ে পড়া দর্শন বাবুর স্ত্রী শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন।
গেলো ৮ মার্চ দর্শন বাবুর স্ত্রী রঞ্জিতাকে ভারতের কর্ণাটকের চিত্র দুর্গায় তার বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের মতে, দর্শনের এক কোটি টাকারও বেশি ঋণ ছিলো। চিত্রদুর্গের বাসিন্দা দর্শন সেচ দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।
২০২১ সাল থেকে আইপিএল বাজির ফাঁদে পড়েন তিনি। এ নিয়ে তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকতো। অভিযোগ আছে, বাজি ধরে দর্শন নিঃস্ব হয়ে যাবার পরও থামেননি। উল্টো বাজি ধরার নেয়ার তিনি প্রায় দেড় কোটি রুপির বেশি ধার করেছিলেন। প্রায় দেড় কোটি রুপি শোধ দিলেও পাওনা ৮৪ লাখ রুপি।
এই টাকার জন্য পাওনাদাররা তার বাড়িতে এসে টাকা আদায়ের জন্য চাপ দিকে শুরু করেন। শুধু তা-ই নয়, ওই প্রকৌশলীকে বাড়িতে না পেয়ে তার স্ত্রী রঞ্জিতাকে হেনস্থা করা হয়েছে অভিযোগ উঠেছে। আর তাদের হয়রানি সহ্য করতে না পেরেই রঞ্জিতা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে কর্ণাটকের পুলিশ।
এ ঘটনায় রঞ্জিতার বাবা ১৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন। দর্শনের ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেটি রঞ্জিতা লিখেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ওই সুইসাইড নোটে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন রঞ্জিতা। এদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, দর্শন মাঝেমধ্যেই অনলাইনে জুয়া খেলতেন। সেই নেশার কারণে ধারের বোঝা বাড়ছিল তার। যদিও দর্শনের শ্বশুর বলছেন, তার জামাই নির্দোষ। তাকে এই জুয়া খেলতে বাধ্য করা হয়েছিল। বাধ্য করা হয়েছিল টাকা ধার নিতেও। যাদের কাছে থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন, তারাই এই কাজ করেছেন।