দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বের মুসলিম জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের আবাসস্থল। পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশগুলোতে অন্যরকম এক আমেজের সৃষ্টি হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় সেহরির সময় মুসলিমদের ঘুম থেকে তোলার নানা রকম বিচিত্র ঐতিহ্যের জন্ম দিয়েছে। তবে সময়ের ব্যবধানে এ ঐতিহ্য এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। শ্রীনগরের চানপুরের নির্জন রাস্তায় ঢোল পিটিয়ে আর ট্রাম্পেট বাজিয়ে রোজাদারদের সেহেরিতে ওঠার জন্য ডাকছেন এক ব্যক্তি, সঙ্গে রয়েছেন তার এক ছেলেও।
নব্বইয়ের দশকে যখন কাশ্মীরে কারফিউ জারি করে বাসিন্দাদের বাড়িতে থাকতে বাধ্য করেছিলো, তখন শ্রীনগরে চানপুরের ফারুক আহমেদ খান স্বেচ্ছায় রোজাদারদের সেহরিতে ওঠানোর দায়িত্ব নেন।
হাতে দুটি ড্রাম স্টিক নিয়ে তারা ‘ওয়াক্ত-ই-সহর’ অর্থাৎ সেহরির সময় হয়েছে বলে ডাকতে থাকেন। সাথে থাকে বিভিন্ন রকমের গান।
প্রায় ৫ কিলোমিটার হেঁটে অন্তত ২০০টি পরিবারকে জাগিয়ে এক ঘণ্টা পর তারা বাড়ি ফেরেন। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ অঞ্চলের মানুষরা এদেরকে সেহার খান নামে ডাকে।
রমজান মাসের শেষে সেহার খানরা তাদের আশপাশের বাসিন্দাদের বাড়িতে যান। লোকেরা যা দেন তাই গ্রহণ করেন। অনেকে চাল-ডাল দেন, আবার নগদ অর্থও দেন। সব মিলিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পান।
ফারুক বলেন, যখন কাশ্মীরে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল, তখন কেউ সাহার খানের চাকরি নিতে প্রস্তুত ছিলো না। আমি আর্মি ক্যাম্প প্রশাসনকে জানাই আমি পবিত্র মাসে মানুষকে জাগানোর কাজটি করব।
এখন মোবাইল ফোন, প্রযুক্তির দাপটে একজন সেহার খানের মূল্য ও ঐতিহ্য এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। ইন্দোনেশিয়াতে সেহরির সময় ঘুম থেকে ডেকে ওঠানোর জন্য রয়েছে একটি অপরিহার্য রমজানের ঐতিহ্য।
শিশুরা ভোর রাতে আশেপাশের রাস্তায় নেমে আসে, ড্রাম বাজিয়ে আর হাঁড়ি-পাতিল নিয়ে রোজাদারদের ডেকে তোলে । সেহরিতে ডেকে ওঠানোর শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে ইস্তাম্বুল।
শহরটির একদল ড্রাম বাদক। উসমানীয় যুগের পোশাকে সজ্জিত হয়ে ড্রাম বাজিয়ে গান গয়ে বাসিন্দাদের জাগানোর কাজটি বছরের পর বছর করে আসছেন তারা।