কামান দাগিয়ে ইফতারের সময় জানান দেয় যে দেশ

রমজান মাস ঘিরে বিশ্বব্যাপী রয়েছে নানা ধরনের আনুষ্ঠানিকতা আর রীতি-রেওয়াজ। এই যেমন মধ্যপ্রাচ্যের কুয়েতসহ বেশ কয়েকটি দেশে কামান দাগিয়ে জানান দেয়া হয় ইফতারের সময়। ১৯০৭ সালে এই রীতি চালু আছে দেশটিতে। কুয়েত সিটির নায়েফ প্রাসাদে এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করে দর্শনার্থীরা।

রমজান এলেই সেহেরী আর ইফতারকে ঘিরে চলে নানান প্রস্তুতি। সাধারণত মাগরিবের আযান দেয়ার সাথে সাথেই সবাই ইফতার করেন। কিন্তু ব্যতিক্রমী নিয়মও রয়েছে কিছু দেশে। রমজানে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে প্রতিদিন কামান দাগিয়ে ইফতারের সময় জানিয়ে দেয়ার রেওয়াজ বেশ পুরোনো।

কুয়েতও এর ব্যতিক্রম নয়। ইফতারের সময় সাধারণত আজানের রীতি থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতের চিত্রটা একটু ভিন্ন। এখানে ইফতারের সময় জানাতে কামানের গোলা ছোড়ার আওয়াজ শোনানো হয়। যা ‘মিডফা আল ইফতার’ নামে পরিচিত। এটি কুয়েতের ঐতিহ্যও বটে।

১৯০৭ সালে কুয়েতের শাসক শেখ মোবারক আল সাবাহ এই রীতি চালু করেছেন। এটি কুয়েতের ঐতিহ্যও বটে। ইফতারের সময় হলেই দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম এই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করে। যা দেখে রোজাদাররা ইফতার শুরু করেন। কুয়েত ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে এই রীতি চালু আছে।

কুয়েত সিটির লিবারেশন টাওয়ারের পাশেই নায়েফ প্রাসাদে এ কামান বসানো হয়েছে। নায়েফ প্রাসাদটি ১৯১৯ সালে শেখ সালেম আল-মুবারক আল-সাবাহ-এর শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল। কুয়েতে প্রথম কামানটি ১৯০৭ সালে শেখ মুবারক আল-সাবাহ-এর শাসনাধীনে আসে।

kaman1

কামানটি ছিল ইরানের গভর্নরের কাছ থেকে পাওয়া একটি উপহার ছিল। নায়েফ প্রাসাদের বর্তমান কামানটি ১৯৯২ সালে বাহরাইন রাজা থেকে প্রতিশ্রুতি হিসেবে এসেছে। এই কামান দাগাতে তিনজন ইউনিফর্মধারী গার্ড কাজ করেন। কামানের গোলা ছোড়ার দৃশ্য দেখতে ছুটে আসেন স্থানীয় ও প্রবাসীরা।

তাদের কাছে এই আয়োজন বেশ মনোমুগ্ধকরও বটে। বলা হয়ে থাকে, মিশরের তৎকালীন শাসক খোস কাদাম একদিন সূর্যাস্তের সময় নতুন একটি কামান পরীক্ষা করতে গিয়ে ঘটনাক্রমে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ফেলেন। সেটা ছিলো রমজানের মাগরিবের সময়।

সমগ্র কায়রোয় শব্দটি শোনা গিয়েছিল। স্থানীয়রা মনে করেছিল, ইফতারের সময় হয়েছে, তা জানাতে এটি নতুন শাসকের নতুন পদ্ধতি। বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সমাজের অভিজাত ব্যক্তিরা সুলতানের কাছে গিয়েছিলেন এবং তার সদয় অঙ্গভঙ্গির জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। তখন থেকে এ ঐতিহ্য আজ অবধি অব্যাহত রয়েছে।