মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন! এবার কি ইসরাইলের সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়াচ্ছে ইরান? সিরিয়ায় ইরানের দূতাবাসে ভয়ঙ্কর এক হামলায় দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাসহ ১১ জনকে হত্যার পর জোরালো হয়েছে এই প্রশ্ন। এই হামলার জেরে তেড়ে-ফুঁড়ে আছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিও। হামলার মোক্ষম জবাব দেওয়ার ব্যাপারেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন এই নেতা। বলেছেন, তেহরানের লক্ষ্যবস্তু হবে ইসরাইল।
এমনকি সিরিয়ায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতও বলছেন, তেহরানের প্রতিক্রিয়া হবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তিমূলক। দামেস্কে ইরানের ওপর হামলাকে কেন্দ্র করে এখন রীতিমতো উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। বাড়ছে বহুপক্ষীয় যুদ্ধের শঙ্কা। সেই হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইরাক, জর্ডান, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বেশিরভাগ মুসলিম দেশ। বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চাইছে ইসরাইল।
যদিও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সামরিক শক্তিধর ইসরাইলের সাথে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে প্রস্তুত নয় ইরান। তবে এক্ষেত্রে ইরানের বুদ্ধিও টনটনে। তাদের মতে হুমকি দিয়ে ইসরাইলকে দৌড়ের ওপর রাখবে তেহরান। এরই মধ্যে তেহরানের বদলা নেয়া হুঙ্কারেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হুঁশ ফিরেছে। হামলার আশঙ্কা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর কমব্যাট ইউনিটের সব সদস্যের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, দেশে দেশে ইসরাইলের দূতাবাসগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা পাঠিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর তাগাদা দিচ্ছে তেল আবিব। বিশ্বজুড়ে ইহুদিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরাইলে সরাসরি হামলা চালিয়ে এভাবেই তাদেরকে মানসিক যন্ত্রণায় রাখবে ইরান। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রক্সি বাহিনী-যেমন হুতি, হিজবুল্লাহর মতো গ্রুপগুলোকে দিয়ে ইসরাইলে হামলা জোরদার করবে তেহরান।
গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার পর ফিলিস্তিনকে নিজেদের একমাত্র লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে তেল আবিব। ধীরে ধীরে এই যুদ্ধে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যান্য দেশও। তার মধ্যে পরমাণু শক্তিধর ইরান হচ্ছে অন্যতম। ইসরাইলকে বাগে আনতে প্রতিনিয়তই নিজ দেশের আশপাশের প্রক্সিদের নিয়ে পরোক্ষ যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রাইসি সরকার।
তবে হামাস-হিজবুল্লাহ এবং হুতির এই প্রতিক্রিয়া-পাল্টা জবাবের সাথে নিজেদের সংযোগ অস্বীকার করে আসছে তেহরান। ইসরাইল এবং পশ্চিমারা ঠিকই জানে যে, তেহরানের শক্তিশালী সমর্থনেই আজকে এতোটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে গোষ্ঠীগুলো। শুধু ইসরাইল কেন, পশ্চিমাদের সাথেও সাপে-নেউলে সম্পর্ক ইরানের। তাইতো পশ্চিমারাও যুক্ত হয়েছে এই যুদ্ধে।
নানা উপায়ে ইরানের বিপক্ষে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা জোরদার করেছে পশ্চিমারা। তবে এসবে পাত্তা দিতে নারাজ ইরান। পশ্চিমা শক্তির বিরুদ্ধেই দীর্ঘদিন ধরে প্রক্সি বাহিনী গড়ে তুলেছে ইরান। ইসরাইলি নেতা নেতানিয়াহু এ নিয়ে বহুবার কথাও বলেছেন। তার মতে, বছরের পর বছর ধরে প্রক্সিবাহিনী গড়ে তুলেছে ইরান। সশস্ত্র এই গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে যাচ্ছে ইসরাইল সরকারও।
গাজায় আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই হামাসের বাইরে ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ। আর লোহিত সাগরে হুতিদের তাণ্ডবতো চলছেই। একের পর এক জাহাজ আটক এবং হামলা চালাচ্ছে এই গোষ্ঠী। পাশাপাশি ইসরাইলকে লক্ষ্য করে একের পর এক মিসাইল ড্রোন হামলা চালাচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা। অভিযোগ রয়েছে, ইরানের নির্দেশেই এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে গোষ্ঠীগুলো।
ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়ায় দূতাবাসে হামলার জবাবে ইসরাইলের বিরুদ্ধে তাদের ব্যবহার করতে পারে ইরান। এছাড়া ইরাকের মিলিশিয়া বদর বাহিনী ও কাতাইব হিজবুল্লাহ ইরানের মদদপুষ্ট। সিরিয়ার আসাদ সরকারও ইরান সমর্থিত। দেশটিতে অবস্থান করে মধ্যপ্রাচ্যে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা। ধারণা করা হচ্ছে, বহুমুখী প্রতিরোধে ইসরাইলের ঘুম হারাম করে দেবে ইরান।
ইসরাইল প্রসঙ্গে মার্কিন নীতি পরিবর্তনের হুমকি বাইডেনের
ইরানের ভয়ে ২৮ দেশে দূতাবাস বন্ধ করলো ইসরাইল