কলকাতায় বাংলাদেশ গণমাধ্যমের ভারতীয় প্রতিনিধিদের সংগঠন ইন্দো বাংলা প্রেসক্লাবের ইফতার পার্টিতে মিললো দুই বাংলা। রোববার সন্ধ্যায় কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে অবস্থিত অভিজাত স্প্রিং ক্লাবে অনুষ্ঠিত ইফতার পার্টিতে বাংলাদেশ উপদূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্টরা।
‘বাংলার সম্প্রীতি বজায় থাক বাঙালির হাত ধরে’ শিরোনামে ইফতার মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন- রাজ্যসভার সংসদ সদস্য ও সিপিআইএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশনার আন্দালিব ইলিয়াস, মিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) রঞ্জন সেন, মিশনের কনস্যুলার (কাউন্সেলর) আলমাস হোসেন, কলকাতার বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি ত্রিদিব ভট্টাচার্য, সংগীতশিল্পী সৈকত মিত্র, কলকাতা প্রেসক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর, বেসরকারি হাসপাতাল (এএমআরআই) সিইও রূপক বড়ুয়া, ইডির আইনজীবী অরিজিৎ চক্রবর্তী, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনিয়ে অন্যতম সদস্য মনোতোষ সরকার, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোতোষ কুমার সাহা, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমন কল্যাণ লাহিড়ী, রন্ধন বিশেষজ্ঞ নয়না আফরোজ প্রমুখ।
তবে সংগীত শিল্পী কবীর সুমনের আসার কথা থাকলো শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেন নাই। যদিও পাশে থাকার শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান তিনি। এছাড়াও বিমান বাংলাদেশ, সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এই ইফতারে।
এদিনের ইফতারের আয়োজন ছিল কলকাতার আদলে। খেজুর, তরমুজ, বাঙ্গি, আঙ্গুর, মুড়ি, বোঁদে, পিয়াঁজু, আলুর চপ, বেগুনি। এরপর ডিনারে ছিল ভাত, ডাল, সবজি, মাছ, মাংস, মিষ্টি ও বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস।
মূলত কলকাতার বিভিন্ন প্রেসক্লাব অন্যান্য অনুষ্ঠান করলেও ইফতারের আয়োজন করে না। গতবার ছোট পরিসরে করলেও মানুষের উপস্থিতি বিপুল সাড়া ফেলেছিল। আর তাতেই এবছর বড় পরিসরে এই ইফতার পার্টির আয়োজন করে বাংলাদেশ গণমাধ্যমের ভারতীয় প্রতিনিধিদের সংগঠন ইন্দো বাংলা প্রেস ক্লাব।
ক্লাবের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পবিত্র সরকার বলেন, মানুষের জন্য ধর্ম- এই মূল কথাটা যদি মানি তবে এই কাজগুলো খুব জরুরি হয়ে ওঠে, যেখানে সকল ধর্মের মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়ে এই ইফতার পার্টির আয়োজন করেছে তা অসাধারণ। স্বাভাবিকভাবেই চারপাশের বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যেভাবে এক সঙ্গে খাওয়া দাওয়া করতে পারছি, এটাই বড় ব্যাপার। ইসলামসহ সব ধর্মে এই কথাটি উল্লেখ রয়েছে।'
সৈকত মিত্র বলেন, রমজান ইফতার এগুলো দেখে আমি বড় হয়েছি। এটা বাঙালির জীবনের একটা অঙ্গ। কলকাতা এমন একটা জায়গা যেখানে সব ধরনের মানুষের এক সঙ্গে নিয়ে সমস্ত আচার পালন করি। দুর্গা পুজোতে যেমন সব ধর্মের মানুষ মিলিত হয়, ইফতারও ঠিক সেভাবে সব ধর্মের মানুষের মিলনস্থল। তার অভিমত- আমরা দুই বাংলা বলি, কিন্তু বাংলা আসলে একটাই। মাঝখানে যে প্যারা আছে সেটা রাজনৈতিক কারণে।
স্নেহাশীষ সুর বলেন, প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে একটি সামাজিক প্রেক্ষিত সম্পৃক্ততা থাকে। এটি সাধারণত একটি বিশেষ ধর্মের মানুষ করে থাকে। কিন্তু আজ পবিত্র রমজানের আদর্শ, পবিত্রতা, নিষ্ঠা, আত্মশক্তি কেবলমাত্র একটি ধর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এক সঙ্গে বসে নিজের খাবারটা ভাগ করে নেওয়ার এই যে মিলন- এর মাহাত্ম্য অনেক বেশি। ইন্দো বাংলাসহ ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে এই যে সামাজিক মিলন উৎসবের আয়োজন করেছে এর একটা আলাদা গুরুত্ব রয়েছে বলে আমি মনে করি।
আন্দালিব ইলিয়াস বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। ইফতারের সময় যে সার্বজনীন উৎসব পরিবেশ তৈরি হয় সেটি অসামান্য এবং গোটা বিশ্বজুড়ে তা হয়ে থাকে। কিন্তু ইন্দো বাংলা প্রেসক্লাব যে ইফতারের আয়োজন করেছে তা দেখে বরাবরের মতো আজও আমার মনটা ভরে গেলো।
বিমান বাংলাদেশের (রিজিওনাল ম্যানেজার) মোহাম্মদ শাহ আলম মিয়াজী বলেন, অনেক সুন্দর আয়োজন। এবার বাংলা ও ওপার বাংলার মধ্যে সুন্দর একটা সেতুবন্ধন মনে হলো। সবার উপস্থিতি খুব ভালো লেগেছে। এই ইফতার মাহফিলের মধ্যে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে এক সঙ্গে বসে দিন কিছু সময় কাটালাম এটা অনেক মজার।