চলে গেলেন ঈশ্বর কণার আবিস্কারক পিটার হিগস

চলে গেলেন ‘ঈশ্বর কণা’র আবিষ্কারক নোবেলজয়ী পদার্থবিদ পিটার হিগস। তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগার পর নিজ বাসায় মারা যান এই কৃতি ব্রিটিশ বিজ্ঞানী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯৪ বছর। বিজ্ঞানীর মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ও। 

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সোমবার অসুস্থতার জেরে বাড়িতেই মৃত্যু হয় বিজ্ঞানী পিটার হিগসের। হিগস ছিলেন এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, হিগসের পরিবার অনুরোধ করেছে যে আপাতত মিডিয়া এবং জনসাধারণ যেন তাঁদের গোপনীয়তাকে সম্মান করে।

এই প্রতিষ্ঠানে পিটার হিগস পাঁচ দশকের বেশি সময় শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, পিটার হিগস ছিলের শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও উদাহরণ। ২০১৩ সালে পিটার হিগস পদার্থবিদ্যায় নেবেল পুরস্কার জেতেন। 

প্রায় ৫০ বছরের অধ্যাবসায়ে হিগসের আবিষ্কারও অবশ্য কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। ‘হিগস বোসন পার্টিকল’ পদার্থ বিজ্ঞানের ভাষায় স্ট্যান্ডার্ড মডেলের প্রস্তাবিত মৌলিক কণাই হিগসের সেই যুগান্তকারী আবিষ্কার। তবে বোস আইনস্টাইন থিয়োরিতে যেসব কণার চরিত্র ও বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা যায় না, তার সমাধানও দিয়েছেন তিনি।

এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পিটার ম্যাথিসন বলেন, হিগস একজন উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব এবং অসাধারণ বিজ্ঞানী। তাঁর দৃষ্টি এবং কল্পনা বিশ্ব সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে। হাজার হাজার বিজ্ঞানী তার কাজে অনুপ্রাণিত হন। আগামী প্রজন্ম তাঁর উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

১৯৬৪ সালে বিজ্ঞানী পিটার হিগস একটি নতুন মৌলের অস্তিত্বের কথা জানান। গোটা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। এই নতুন মৌলের নাম দেওয়া হয় ‘হিগস-বোসন কণা’। তবে, লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে সেই উপাদানের নিশ্চয়তা পেতে সময় লেগেছিলো ৫০ বছর। 

উপ-পরমাণু কণা কীভাবে পদার্থ তৈরি করে, পদার্থ কীভাবে ভর পায়, তা নিয়ে কাজ করেছিলেন হিগস। হিগসের এই তত্ত্বই মহাবিশ্বে কীভাবে ভর তৈরি হয়েছিল, তা বুঝতে সাহায্য করেছিল। 

এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, তাদের গ্রাউন্ডব্রেকিং ১৯৬৪ পেপারে দেখানো হয়েছে, কীভাবে হিগস-বোসন নামে পরিচিত একটি নতুন উপ-পারমাণবিক কণার অস্তিত্বের মাধ্যমে মৌলিক কণাগুলি ভর অর্জন করছে। তিনি এবং বেলজিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রাঙ্কোইস এঙ্গলার্ট ১৯৬৪ সালে হিগস-বোসন তত্ত্বের জন্য ২০১৩ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। 

এই ব্রহ্মাণ্ডের সব কিছুই কণার সমষ্টি। কিন্তু ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এই কণারা একে অন্যকে কাছে টানত না, যদি না তাদের ভর থাকত। ভর না থকেলে এই কণারা কেবলই ছুটে বেড়াত, আর এই মহাবিশ্বের চেহারা হত অন্য রকম। কিন্তু এই কণাদের ভর যোগাচ্ছে কে, সেই প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের তাড়া করে ফিরেছে যুগের পর যুগ। 

১৯৬৪ সালে বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ফিজিকাল রিভিউ লেটারস’-এর দুই প্রবন্ধে প্রাথমিক কণার ভরের উৎস নিয়ে তত্ত্বীয় ব্যাখ্যা হাজির করা হয়। এর একটি প্রবন্ধের লেখক ছিলেন ফ্রাঁসোয়া এঙ্গলার্ট ও রবার্ট ব্রাউট। অন্য তত্ত্বটি দেন পিটার হিগস। তাদের প্রস্তাব করা ‘স্ট্যান্ডার্ড মডেলে’ একটি কণার কথা বলা হয়, যার নাম রাখা হয় পিটার হিগস ও বাঙালি বিজ্ঞানী সত্যোন্দ্রনাথ বসুর নামে।