হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের যুদ্ধবিরতির চুক্তি ভন্ডুলে নেতানিয়াহুর ভূমিকা এবং রাফাহ অভিযান নিয়ে কঠোর অবস্থানের কারণে চটেছেন দেশটির সবচেয়ে বড় দোসর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি বিশ্বাস হারানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন বাইডেন। একই সাথে ইসরাইলি নেতার ওপর বিরক্তও হয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক্সিওস জানিয়েছে, ইসরাইলের কাছে প্রতিশ্রুত একটি অস্ত্রের চালান স্থগিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রথমবার নেতানিয়াহুর প্রতি বিশ্বাস হারানোর ইঙ্গিত দিলেন। আমেরিকার তৈরি গোলাবারুদের একটি চালান ইসরাইলে পাঠানোর বিষয়টি থামিয়ে দেয়ার সঙ্গে যুক্ত এক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে বাইডেন প্রশাসন কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলো, তা প্রকাশ করেনি সূত্র।
গোলাবারুদের এই চালানটি গত সপ্তাহে ইসরাইলে পৌঁছানোর কথা ছিলো। দুটি ইসরাইলি সূত্রের মতে, এই বিলম্বের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে কোন আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সাত অক্টোবরের পর যুক্তরাষ্ট্রের এমন ধরনের সিদ্ধান্ত এই প্রথম। নেতানিয়াহু যখন রাফাহ অভিযান এগিয়ে নিতে একগুয়েমি আচরণ করে যাচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে বাইডেন প্রশাসন এ ধরনের সিদ্বান্ত নিলো।
অস্ত্র-গোলাবারুদের চালান স্থগিতের বিষয় জড়িত মার্কিন সূত্র অবশ্য দাবি করেছেন, গাজা উপত্যকার রাফাহ শহরে সম্ভাব্য ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সঙ্গে বাইডেন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের যোগসূত্র নেই। তা ছাড়া এই সিদ্ধান্ত ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য চালান পাঠানোর বিষয়টিকে প্রভাবিত করবে না। সূত্রটি মনে করে, এটি একটি সাময়িক এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যার মধ্যে একটি বার্তা নিহিত রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে মার্কিন নিরাপত্তা পরিষদের এক মুখপাত্র জানান, ইসরাইলের প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতি সব সময় একই আছে। ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরাইলের জন্য নিরাপত্তা সহায়তা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলকে জরুরি সহায়তা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিশাল বরাদ্দ পাস করেছে। ইরানের হামলা থেকে ইসরাইলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র একটি অভূতপূর্ব জোটের নেতৃত্ব দিয়েছে।
তেল আবিবের এক কর্মকর্তা প্রায় একই ধরনের মনোভাব জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরাইলে এখন পর্যন্ত কোন বাধা ছাড়াই সামরিক চালান অব্যাহত আছে। বিচ্ছিন্নভাবে একটি দুটি চালান বিলম্বিত হওয়া মানে এই নয় যে, সামগ্রিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তেল আবিব এখনও গোলাবারুদের চালান স্থগিতের বিষয়ে কোন তথ্য জানে না। ওয়াশিংটন থেকে কোন বার্তা নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে পৌঁছায়নি।
তবে মার্কিন নীতি বিশ্লেষকরা মনে করে, রাফাহ অভিযান নিয়ে নেতানিয়াহুর কঠোর অবস্থান নিয়ে মার্কিন প্রশাসন যে সত্যিই বিরক্তি তার প্রকাশ হচ্ছে গোলাবারুধের চালান আটকে দেয়া। যদি শেষ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে নেন নেতানিয়াহু তাহলে ইসরাইল প্রশ্নে বাইডেন প্রশাসনের মনোভাবে পরিবর্তন আসতে পারে। ইসরাইলের প্রতি অস্ত্রের চালানসহ সামরিক সহায়তার বিষয়ে নতুন করে ভাববে আমেরিকা।
গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন একটি বৈদেশিক সহায়তা বিলে সই করেছেন। এতে ইসরাইল-হামাস সংঘাতকে কেন্দ্র করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৬ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে, ১৫ বিলিয়ন ডলার ইসরাইলের জন্য সামরিক সহায়তা। ৯ বিলিয়ন ডলার গাজার জন্য মানবিক সহায়তা। আর দুই দশমিক চার বিলিয়ন ডলার অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের জন্য রাখা হয়েছে।
সাত মাস ধরে গাজায় হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। এই হামলার মুখে গাজার বেশিরভাগ মানুষ উপত্যকাটির রাফাহতে আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে ১০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি আছে। ইসরাইল-হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তির লক্ষ্যে বর্তমানে আলোচনায় যুক্ত আছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই আলোচনায় কোনো অগ্রগতি নেই। দুপক্ষের অনড় অবস্থানে গাজায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।