ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস মধ্যস্থতাকারীদের দেয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে রাজি হয়েছে। কিন্তু ইসরাইল বলেছে, যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে তাদের শর্তগুলো পূরণ না হওয়ায় তারা হামলা চালিয়েই যাবে।
মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত সাত মাস ধরে গাজায় চলা পরিস্থিতির কারণে রাফাহতে এই মুহূর্তে ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি রয়েছে। এর মধ্যেই হামলা আরও জোরদার করার জন্য এ অঞ্চলের বাসিন্দাদের রাফাহ ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইল।
হামাস এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছে, হামাস যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করেছে বলে প্রধান নেতা ইসমাইল হানিয়াহ কাতারি এবং মিশরীয় মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়েছেন।
কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটিতে ইসরাইলের দাবি পূরণ হয়নি। তবে ইসরাইল একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে আলোচকদের সাথে দেখা করার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠাবে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি দল ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু করতে মঙ্গলবার কায়রো যাবে।
বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় আরও জানিয়েছে, তার (নেতানিয়াহুর) যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা রাফাহতে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।
এর বিপরীতে জর্ডানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আয়মান সাফাদি সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এক্স-এ বলেছেন, নেতানিয়াহু রাফাহতে বোমা হামলা করে যুদ্ধবিরতিকে বিঘ্নিত করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইসরাইলি এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, হামাস যে প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে তা মিশরীয় প্রস্তাবেরই সংস্করণ। প্রস্তাবটিতে এমন সব বিষয় রয়েছে, যা ইসরাইলের পক্ষে মানা সম্ভব না।
এদিকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, ওয়াশিংটন তার মিত্রদের সঙ্গে হামাসের যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো নিয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আলোচনা করবে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবে।
গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরাইলে ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। বন্দি করা হয় ২৫২ জনকে। এরপর থেকে গাজায় বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৬০০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
এদিকে হামাস যাদের অপহরণ করেছিলো তার মধ্যে ১২৮ জনের খবর এখনও পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এরমধ্যে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।