গান্ধী পরিবারের আসনে কে এই কিশোরীলাল শর্মা?

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের রায়বরেলি ও আমেথি আসন সব সময়ই কংগ্রেসের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত। এই দুই আসনে গান্ধী পরিবারের রয়েছে বিশাল জনপ্রিয়তা এবং ঐতিহ্য। অথচ গত ২৫ বছরের মধ্যে এবার প্রথম আমেথিতে নেই গান্ধী পরিবারের কোনো প্রার্থী। এই নির্বাচনে রায়বরেলি থেকে প্রার্থী হচ্ছেন রাহুল গান্ধী।

আর আমেথি থেকে দাঁড়াচ্ছেন গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ কিশোরী লাল শর্মা। চার দশকের বেশি সময় ধরে গান্ধী পরিবারের বিশ্বস্ত অনুগামী তিনি। রাজনীতি মহলে কিশোরীলাল বেশ পরিচিত হলেও, ভারতের জনসাধারণ খুবই কম জানতে এই নাম। ফলে তাকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ জন্মেছে সবার মধ্যে।

আমেথি থেকে বিজেপির হয়ে লড়ছেন শক্তিশালী নেতা স্মৃতি ইরানি। একদা টেলিভিশন সিরিয়ালের জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীকে হারাতে কিশোরী লাল শর্মার উপর ভরসা রেখেছে কংগ্রেস। কিশোরী লাল অবশ্য জন্মসূত্রে উত্তরপ্রদেশের নন। তাঁর জন্ম লুধিয়ানায়। ছাত্রজীবন থেকে কংগ্রেসের রাজনীতি করছেন।

রাজীব গান্ধীর সময় থেকেই গান্ধী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ। রাজীবের মৃত্যুর পর গান্ধী পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আরও বাড়ে। রাহুল সংসদ সদস্য থাকার সময় তার প্রতিনিধি হিসাবে কিশোরী লালই আমেথির কাজকর্ম দেখতেন। রায়বরেলিতেও সোনিয়া গান্ধীর প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করেছেন তিনি।

রাজনীতি আর গান্ধী পরিবার সূত্রেই আমেথি ও রায়বরেলিতে পরিচিত মুখ কিশোরী লাল শর্মা। পাঞ্জাব থেকে কিশোরীলালকে আমেথিতে নিয়ে আসেন প্রয়াত রাজীবই। তখন তিনি এই কেন্দ্রের সংসদ সদস্য। সেই থেকে আমেথিতে গান্ধী পরিবারের সব ধরনের কাজকর্ম দেখভাল করতে শুরু করেন কিশোরীলাল শর্মা।

kisor1

১৯৮১ সালে রাজীব গান্ধী পূর্ব উত্তরপ্রদেশের এই আসনে নাম লেখালেও, ১৯৭৭ সালে এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন রাজীবের ভাই সঞ্জয় গান্ধী, তবে জিততে পারেননি। তিন বছরের মধ্যেই ১৯৮০-র লোকসভা ভোটে আমেথিতে জয়ী হন সঞ্জয়। বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যুর পরে উপনির্বাচনে জেতেন রাজীব।

আবার প্রথমবার লোকসভার লড়াইয়ে দাঁড়ানোর পর সোনিয়া গান্ধীকে আমেথি চিনতে সাহায্য করেছিলেন এই কিশোরী লাল শর্মাই। আসনটি রাহুল গান্ধীর জন্য ছেড়ে যখন সোনিয়া গান্ধী রায়বরেলিতে যান, তখনও আমেথির দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন কেএল শর্মাই। তাকেই এবার গুরুদায়িত্ব দিলো কংগ্রেস।

২০ মে লোকসভার পঞ্চম দফায় ভোট রয়েছে আমেথি এবং রায়বরেলিতে। ২০১৯ সালে আমেথিতে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী স্মৃতি ইরানি। তার সঙ্গে পরাজিত রাহুল গান্ধীর ব্যবধান ছিল ৫৫ হাজারেরও বেশি। প্রায় এক মাস আগে আবারও আমেথির প্রার্থী হিসাবে স্মৃতির নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি।

জল্পনা ছিল এবার লোকসভা নির্বাচনেও রাহুল ফিরতে পারেন আমেথিতে। কিন্তু কংগ্রেসের কাছে মনে করে, এই আসনে কঠিন লড়াই হবে। স্মৃতি ইরানি সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। সেখানে জিততে হলে প্রচারে ঝড় তুলতে হবে। কিন্তু সেটি গান্ধী পরিবারের সদস্যদের পক্ষে সম্ভব নয়।

kisor2

গান্ধী পরিবারের সদস্যরা এ কেন্দ্রে প্রার্থী হলে দেশজুড়ে প্রচার করার সুযোগ থাকবে না। এ কারণেই আমেথি এলাকায় থাকা কিশোরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। তার হয়ে প্রচারে ঝাঁপাবে গান্ধী পরিবার। তার মনোনয়নেও থেকেছেন তারা। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেছেন, কেএল শর্মাকে ৪০ বছরের জনসেবার পুরস্কার দেবে মানুষ।