নরওয়ের আকাশে খসে পড়লো বিশাল আকারের উল্কা

সচরাচর এমন ঘটনা খুব কমই ঘটে থাকে। নরওয়ের আকাশে অস্বাভাবিক বড় আকারের একটি উল্কা জ্বলে উঠতে দেখা গেছে। রোববার (২৫ জুলাই) ক্ষণিকের এই ঘটনায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় আকাশে শব্দ ও আলোর অভূতপূর্ব এক দৃশ্যের দেখা মেলে। 

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই উল্কার কিছু অংশ রাজধানী অসলোর আশেপাশে পড়তে পারে। তবে উল্কাপাতের কারণে কোন হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সময় রাত একটার দিকে উল্কা জ্বলে উঠার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার খবর আসতে শুরু করে। একেবারে উত্তরের শহর ট্রোন্ডহেইম থেকেও এই উল্কার আলো দেখতে পেয়েছে অনেকে।

অসলো দক্ষিণে হোলমেস্ট্র্যান্ডে একটি ওয়েব ক্যামেরা উল্কাপাতের একটি ভিডিও ধারণ করেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে আকাশে হঠাৎ একটি আগুনের গোলা জ্বলে উঠলো এবং সেটির আলোর  বিচ্ছুরণে আলোকিত হয়ে উঠলো উপকূলের বিশাল এলাকা।

নরওয়ের উল্কাপাত বিষয়ক একটি নেটওয়ার্কের সদস্যরা ভিডিও ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করে দেখছেন। চেষ্টা করছেন উল্কাপাতে উৎপত্তি ও শেষ গন্তব্য খুঁজে বের করার।

প্রাথমিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নেটওয়ার্কটি জানিয়েছে, অসলো থেকে ৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ফিনিমার্কা নামের একটি কাঠের এলাকায় উল্কার কিছু খন্ড আঘাত হানতে পারে। 


উল্কার আলো ও শব্দ শুনতে পাওয়াদের একজন হলেন মরটেন বিলেট। যিনি উল্কা নেটওয়ার্কের একজন সদস্যও। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে বিলেট বলেন, ‘অবিশ্বাস্য এক ঘটনা’।

তিনি জানান, রোববার বিকেল পর্যন্ত এমন কোন ধ্বংসাবশেষের খোঁজ পাওয়া যায়নি, যাতে করে উল্কাপাতের সঠিক স্থানটি বলে দেয়া সম্ভব। স্থানটি খুঁজে পেতে দশ বছর সময়ও লাগতে পারে।

বিলেট আরো জানান, উল্কাখন্ডটি সেকেন্ডে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার বেগে ধেঁয়ে আসছিলো এবং পাঁচ থেকে ছয় সেকেন্ডের মতো রাতের আকাশে আলোকিত করেছিলো।

বিলেট বলেন, অনেক প্রত্যক্ষদর্শী উল্কাপাতের সময় তীব্র বাতাসের ঝটকা অনুভূব করেছিলেন। বড় ধরনের উল্কাপাতের সময় বায়ুচাপের এমন ঘটনা ঘটে থাকে।

তাঁর ধারণা, যে উল্কাখন্ড দেখা গেছে সেটি মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের মধ্যবর্তী মহাকাশের একটি প্রস্থর খন্ড হতে পারে। কারণ ওটাই পৃথিবীর গ্রহাণুর এলাকা। 

এর আগে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে দিনে দুপুরেই ঘটেছিল আকাশ থেকে বিশাল জ্বলন্ত উল্কাখন্ড পতনের ঘটনা। 

প্রায় ১৭ মিটার বা ৫৫ ফুট চওড়া এবং ৭-১০ হাজার টন ওজনের উল্কাখন্ড বা গ্রহাণুটি যে শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে বিস্ফোরিত হয়েছিলো, তার পরিমাণ ত্রিশটি পারমাণবিক বোমার সমান।

বিস্ফোরণের আলোকচ্ছটায় সূর্যের আলো ম্লান হয়ে পড়ে কয়েক মুহুর্তের জন্য। এর ঝাপটায় কেঁপে উঠে দালান, ভেঙে পড়ে জানালার কাঁচ, আহত হয় ষোলশ’র মতো মানুষ।

ঘটনার প্রায় ৯ মাস পর সেই গ্রহাণুর একটি বিরাট টুকরো উদ্ধার করা হয়। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সেটি দুই কিলোমিটার চওড়া একটি গ্রহাণুর টুকরো।

রাতের আকাশের মাঝেমাঝে কিছু এলাকা জুড়ে পৃথিবীর দিকে ধাবিত কিছু আলোর মত বস্তু দেখতে যায়, যা দীর্ঘ লেজ বিশিষ্ট ধূমকেতু থেকে তৈরি হয়।

এই বিশেষ প্রজ্বলিত বস্তু, যদি পৃথিবী পৃষ্ঠতলের ওপর পড়ে যাবার আগেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় তখন সেগুলিকে বলা হয় উল্কা।

অর্থাৎ, উল্কা হল মহাকাশে পরিভ্রমণরত পাথর বা ধাতু দ্বারা গঠিত ছোট মহাজাগতিক বস্তু যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করলে বায়ুর সংঘর্ষে জ্বলে উঠে। আর বায়ুমণ্ডলে নিঃশেষিত না হয়ে যদি আছড়ে পড়ে পৃথিবীতে, তখন তাকে বলা হয় উল্কাখন্ড।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ধরণের উল্কাখন্ডের আঘাতেই একটি সময় পৃথিবী থেকে ডাইনোসর জাতীয় বিশাল আকৃতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে।


একাত্তর/এসজে