ইসরাইলে প্রথমবার কামিকাজে ড্রোন দিয়ে ইরাকি যোদ্ধাদের হামলা

দখলদার ইসরাইলের এইলাত সমুদ্র বন্দরে প্রথমবারের মতো কামিকাজে বা আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে ইরাকের সন্ত্রাস-বিরোধী সংগঠনগুলোর জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিট বা পিএমইউ। তবে বরাবরের মতো ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মুখ খোলেনি তেল আবিব। 

মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেয়া এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে পিএমইউ। খবর ইরানভিত্তিক প্রেসটিভি'র।   

বিবৃতিতে বলা হয়, এইলাত সমুদ্র বন্দরে জায়নবাদীদের একটি মৌলিক স্থাপনায় পিএমইউ হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। দখলদার ইসরাইল অবরুদ্ধ গাজায় যে বর্বর আগ্রাসন চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে অব্যাহত লড়াইয়ের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

গাজা গণহত্যা ও আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে বলে জানায় পিএমইউ। 

এদিকে ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরাইলের এইলাত বন্দরে হামলা চালানোর জন্য যে কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করেছে তার নাম আল-আরফাদ বলে জানা গেছে। 

ইসরাইলের এইলাত সমুদ্র বন্দর।

পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইসরাইলি ও মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আল-আরফাদ আত্মঘাতী ড্রোনের এটিই প্রথম প্রয়োগ। 

আরফাদ ড্রোন ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি উন্নতমানের এবং দূরপাল্লার সামাদ ড্রোনের মতো। 

এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। 

চলমান এ গণহত্যার প্রতিবাদে ইরাক, ইরান, লেবানন, ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের একাধিক রাজনৈতিক সংগঠন ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।