ফ্রান্সে ভয়াবহ এক সন্ত্রাসী হামলায় দুই জেল কর্মকর্তা নিহত এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশটির নরম্যান্ডির রুয়েনের কাছে একটি প্রিজন ভ্যানে অতর্কিত হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলার পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেছে, তাদের খোঁজে গোটা ফ্রান্সজুড়ে অভিযান চলছে।
বিবিসি এক প্রতিবেতনে জানিয়েছে, একজন বন্দিকে ভ্যানে করে আদালত থেকে কারাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে এবং ওই বন্দি হামলাকারীদের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে রুয়েনের কাছে এক মোটরওয়েতে পুলিশ বুথের সামনে এই হামলা হয়।
ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী এরিক ডুপন্ড-মোরেত্তি জানিয়েছেন, আদালতে শুনানি থেকে এক আসামিকে কারাগারে নেয়ার সময় প্রিজন ভ্যানে ভারী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। দুইটি গাড়িতে করে হামলাকারীরা প্রিজন ভ্যানের গতিরোধ করার পর ভারী অস্ত্র নিয়ে কারা কর্মকর্তাদের প্রতি অবিরাম গুলিবর্ষণ করে।
আরও তিনজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই অপরাধীদের খুঁজে বের করতে সব ধরনের উপায় নিযুক্ত করা হচ্ছে। আমার নির্দেশে, কয়েক শতাধিক পুলিশ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।’

ফরাসি আউটলেট বিএফএমটিভি জানিয়েছে, আজ সকালে রুয়েনে আদালতের শুনানিতে অংশ নেয়ার পরে বন্দিকে ইভরেক্স শহরের কারাগারে ফেরত পাঠানো হচ্ছিলো। মোটরওয়েতে একটি টোল বুথের কাছে ১১টার দিকে অতর্কিত হামলা হয়, যা এখন দুই দিকেই বন্ধ রয়েছে।
এএফপি জানায়, হামলাটিতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি অংশ নেয়। তারা দুটি গাড়িতে করে প্রিজন ভ্যানটিকে থামাতে বাধ্য করে। আটক ব্যক্তি এবং হামলাকারীরা একটি গাড়িতে করে পালিয়ে গেছে, যা পরে কাছেই পুড়ে যাওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একটি পুলিশ সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছে, বেশ কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি দুটি গাড়িতে এসে প্রিজন ভ্যানটিকে প্রথমে ধাক্কা দেয়, তারপর গুলি চালাতে শুরু করে। এ সময় তারা ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছিলো। গোলাগুলির সময় এক হামলাকারীও আহত হয়েছে।
সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটিকে সবার জন্য শোকের উল্লেখ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো বলেছেন, অপরাধীদের ধরতে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করার জন্য চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোকে সাত্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার নেই।
ঘটনার প্রতিবাদে ফরাসি পার্লামেন্টে এক মিনিট নীরবতা পালনের পর, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আটাল বলেন, আমরা এমন একটি দেশ যারা কখনোই সহিংসতার কাছে ঘাবড়ে যাবে না, ঐক্যবদ্ধ থাকবে। তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের খুঁজে বের করার জন্য সবকিছু করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
গাজায় পারমাণু বোমা ফেলতে বললেন মার্কিন সিনেটর
শি'র সাথে দেখা করতে চীনে যাচ্ছেন পুতিন