একটা সময় ছিলো, যখন পায়ে হেঁটেই বিশ্বভ্রমণে বেড়িয়েছেন বহু পর্যটক। কিন্তু এই সময়ে আধুনিক যানের কারণে এখন আর পায়ে হেঁটে বিদেশ ভ্রমণের কথা চিন্তা করেন খুব কম মানুষই। তবে অসাধ্য সাধনে এখনো মানুষজন কতো কিছুই না করছেন। তেমনই এক অসাধ্য সাধন করেছেন এক ফরাসি পর্যটক।
আট মাসে ১৩টি দেশ পাড়ি দিয়ে সৌদি আরবের মদিনায় পৌঁছেছেন ফরাসি পর্যটক মোহামেদ বুলাবিয়ার। আর, এজন্য আট হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ হেঁটে তিনি মদিনায় পৌঁছেছেন। এখন তার ইচ্ছা মক্কায় গিয়ে পবিত্র ওমরাহ পালনের; তারপর আবার পায়ে হেঁটেই তিনি ধরবেন বাড়ির পথ।
বুলাবিয়ার জানান, গেলো বছরের ২৭ আগস্ট প্যারিস থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। সৌদি আরব পৌঁছানোর আগে তিনি সুইজারল্যান্ড, ইতালি, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া, মন্টিনিগ্রো, আলবেনিয়া, গ্রিস, তুরস্ক, মেসিডোনিয়া এবং জর্ডান পাড়ি দেন। এতোটা দীর্ঘ পথেও কোন সমস্যা হয়নি তার।
দীর্ঘ এই পদযাত্রায় তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের একটি ব্যাগ, মানচিত্র ও ২৫ কেজি ওজনের একটি তাঁবু ছিলো। বেশিরভাগ সময় তিনি রাস্তার পাশে মসজিদে কিংবা অপরিচিত কারো ঘরে মেহমান হয়েছেন। তিনি বলেন, ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিলো, একদিন আমি প্রিয় নবীকে অনুকরণ করে হেঁটে মক্কায় পৌঁছাব।
বুলাবিয়ার জানান, পুরো ভ্রমণে রাস্তায় তেমন কোন সমস্যা না হলেও বিভিন্ন ধরনের বিরূপ আবহাওয়ার সঙ্গে তাকে লড়াই করতে হয়েছে। তিনি বলেন, আমি গ্রীষ্মে রওনা দিয়েছিলাম। পথেই বসন্ত, শরৎ এবং শীতকালকে অতিবাহিত করতে হয়েছে। এই বিষয়গুলো ভীষণ চ্যালেঞ্জিং ছিলো।
সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে এই ফরাসি পর্যটক আরও বলেন, একটা সময় ঝড়বৃষ্টির মুখোমুখি হই। গ্রিক সীমান্তে প্রচণ্ড তুষারঝড়ে এক সপ্তাহ যাত্রা বিলম্ব করতে হয়েছিল। দীর্ঘ ভ্রমণের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বুলাবিয়ার জানান, যাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে তিনি দুই বছর আগে প্রস্তুতি নেন এবং দীর্ঘপথ হাঁটার অভ্যাস গড়েন।
এরপর যাত্রাপথের রুট পরিকল্পনা, সব ধরনের সতর্কতা নেয়াসহ নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করেন। বুলবিয়ার বলেন, আমি প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় হেঁটেছি। আমি ভাগ্যবান যে আমার সব কিছু ভালো চলছিলো। মদিনা পৌঁছাতে পেরে আনন্দিত। এখানে এসে আমার দু’চোখ ভিজে গেছে।